Friday, September 30, 2016

এলোমেলো_আর এক কিস্তি

কী করে তোরে বোঝাব হায়
দেহপট সনে নট সকলি হারায়।

..........

এক এক সময়
কত ছবি কত কথা বলে দেয়
তবু কি বুঝি কোনটা ন্যায়,
আর কোনটা অন্যায়!

..........

সৌজন্য
............
সুযোগ বড় একটা জোটে না। কিন্তু আজ মিনিবাসে আচমকাই বসার জায়গা পেয়ে গেলাম। বসে মোবাইল ঘাঁটছি। কিছুক্ষণ বাদে এক বয়স্ক মহিলা উঠে ঠিক মুখের গোড়ায় এসে দাঁড়ালেন।
এ ক্ষেত্রে যা হয়... অস্বস্তি।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও জায়গা ছেড়ে দিয়ে বসতে বললাম ওই ভদ্রমহিলাকে। খেয়াল করলাম, বয়স্ক মহিলাটির সঙ্গে তাঁর ছেলেও আছে। বয়স ৩০ এর কোঠায়।
আরও কিছু পরে পাশের সিট’টা খালি হল। হিসেব মতো, সেই সিটে আমার বসার কথা। কারণ সিটের সামনে আমিই দাঁড়িয়ে। কিন্তু না। তা হল না। মহিলা সরে এসে জায়গা করে দিলেন তাঁর ছেলেকে। পরম মমতায় বললেন, 'বস বস, এখানে বস।'
আর ছেলেটিও দিব্যি দ্বিরুক্তি না করে খালি আসনটিতে বসে পড়ল। তারপর মা-ছেলে’তে সুখদুঃখের গপ্পো করতে করতে চলল। একবারও আমার দিকে না তাকিয়ে।
ভাবছিলাম, এই ছেলেই যদি ভবিষ্যতে অন্য কারও কথায় এই মা’কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি!...
.....................
আর হ্যাঁ, এটা কিন্তু খুব নতুন অভিজ্ঞতা নয়। এর আগেও যৎসামান্য লাভের জন্য এমন সৌজন্যের অভাব দেখেছি। আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, নিজেকে নিয়ে মশগুল থাকা, সহনাগরিক, সহযাত্রী, সহকর্মী সম্পর্কে উদাসীন থাকা ইত্যাদি প্রবণতা... ছেলে-মেয়ে, বয়স্ক-তরুণ নির্বিশেষে।

............

বক্তব্যটা খুব পরিষ্কার
....................................
নিজের মনের কথা বলার অধিকার
মৌলিক নাগরিক অধিকার।
এই অধিকার কোনোভাবেই
কেড়ে নেওয়া বা খর্ব করা যায় না।
সেই কারণেই,
আমরা স্বাধীন মতপ্রকাশের পক্ষে।
মুক্ত চিন্তার পক্ষে।
বিবেকের স্বাধীনতার পক্ষে।
এটা কোনও দলীয় রাজনীতির বিষয় নয়।
এটা কোনও গোষ্ঠী বিশ্বাস বা সংস্কৃতির বিষয় নয়।
এটা সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়।
নাগরিক অধিকারের বিষয়।
গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের বিষয়।
মানবাধিকারের বিষয়।
ভারতীয় সংবিধান
স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে
মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদও
স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে মান্যতা দিয়েছে।
সেই সনদে ভারত স্বাক্ষর করেছে।
আপনি যদি ভারতীয় হন, তাহলে
ভারতীয় সংবিধানকে মর্যাদা দিন। শ্রদ্ধা করুন। মেনে চলুন।
আপনি যদি দেশপ্রেমিক হন,
তাহলে মনে রাখুন,
নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার
কোনও যুক্তি বা অজুহাতেই
খর্ব করা যায় না। নিষিদ্ধ করা যায় না।

............

ধর্ম তো প্রতিদিনই
মানুষের, মানবতার অবমাননা ঘটাচ্ছে।
মানুষও কি পারে না, মাঝেমধ্যে
ধর্মেরও অবমাননা ঘটাতে?
বাঁক নিয়ে হাঁক দিয়ে
ধর্মের পাণ্ডারা কতই তো রটাচ্ছে।
মানুষও কি পারে না ধর্ম ও
ঈশ্বরের নিন্দা'টা রটাতে?

............

মতপ্রকাশের সমর্থনে...

পড়শি বাংলাদেশের মতো এ দেশেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মৌলবাদী অসহিষ্ণুতা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে সমাজের আনাচেকানাচে। ইদানীং গোটা ভারতেই যুক্তিবাদী-মানবতাবাদী মুক্তচিন্তা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গিয়েছে। সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ঘটানো হচ্ছে। ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে গণতান্ত্রিক চিন্তার পরিসর। কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছে বিধ্বংসী ভাইরাসের মতোই। এর ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা অসম্ভব। এর বিরুদ্ধে আমাদের মুখোমুখি লড়তে হবে। বের করতে হবে প্রতিষেধক। বৈজ্ঞানিক, গণতান্ত্রিক, যুক্তিবাদী তথা মানবিক মূল্যবোধকে আঘাত করে এমন সমস্ত বিষয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি, বিজ্ঞানমনস্কতার প্রসার, যুক্তির চর্চা বাড়ানো এবং যাবতীয় বিতর্ক ও মতবিরোধ সত্ত্বেও আন্তরিক সহমর্মিতা নিয়ে দল-মত-রং না দেখে নির্যাতিত প্রতিটি সহনাগরিকের পাশে দাঁড়ানোই এই মুহূর্তে আমাদের প্রাথমিক কর্তব্য।
ব্লগার তারক বিশ্বাসের 'প্রায় অপহরণ', গ্রেফতারি, মামলা, পুলিশি গোপনীয়তা, সরকার-প্রশাসনের হিরন্ময় নীরবতা... এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবলে ভুল হবে... এই ধরনের ঘটনার জমি কিন্তু প্রস্তুত হয়েই আছে... চোরাগোপ্তা আক্রমণ হয়েও চলেছে... যদিও সব ক্ষেত্রে তা 'খবর' হয়ে উঠছে না।
আমরা যদি এখনও সতর্ক না হই, তাহলে একদিন আমাদেরও হয়তো অনেককে কারান্তরালে বসে সেই বিখ্যাত কবিতাটা আওড়াতে হবে!!...

First they came for the Socialists, and I did not speak out—
Because I was not a Socialist.
Then they came for the Trade Unionists, and I did not speak out—
Because I was not a Trade Unionist.
Then they came for the Jews, and I did not speak out—
Because I was not a Jew.
Then they came for me—and there was no one left to speak for me.
তাই বন্ধু, এই লড়াইয়ে আপনাকে পাশে চাই...

..................

তারক বিশ্বাসের মুক্তি চাই। সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাঁকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
সবার উপর মানুষ সত্য
তাহার উপরে যুক্তি-তথ্য।
অসহিষ্ণুতা, পেশিশক্তি নয়
স্বাধীন মতপ্রকাশ হোক বাঙময়।

........................

সেই একই ছক
যুদ্ধের জিগির তুলে
যুক্তিকে ব্লক।
হেনকালে কে কহিবে
অধিকার কথা
বলিউডও চিল্লোয়
শ্রেয় নীরবতা।

.......................

এই ভোর
যেন তোর
প্রতিদিন
ভরে দেয়।
এই চোখ
সব শোক
নিশিদিন
মুছে নেয়।

......................

তোমাদের কাছে যা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা
টিভিতে আইপিএলের উন্মাদনা
আমাদের তা নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়ানা।

...........................

স্লোগান দিতে গিয়ে আমি চিনতে শিখি
কে ভাই কে দুশমন...
অবিলম্বে নিঃশর্তে
তারক বিশ্বাসের
মুক্তি চাই
### ###
ধর্ম, ধর্মীয় নেতা, রাষ্ট্র, সংস্কার
কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়
###
দূর হটো অসহিষ্ণুতা
চাই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
###
সবার উপরে মানুষ সত্য
তাহার উপরে যুক্তি, তথ্য
###
মূল্যবোধের সারকথা
গণতন্ত্র যুক্তি বিজ্ঞামনস্কতা মানবতা
###
ধর্ম যার যার
যুক্তি সব্বার
###
ধর্ম যার যার
পৃথিবীটা সব্বার

Wednesday, August 10, 2016

irom sharmila chanu_manipur_শর্মিলা

কাল্পনিক মন কি বাত
...........................



আমি অনশন করব, আর
ওরা আমার নাম ভাঙিয়ে
টাকা লুটবে, মজা মারবে
দেশ বিদেশ নেতা মন্ত্রী করে বেড়াবে...
ওটি আর হচ্ছে না।

সব ধেড়ে ব্যাটার মুখোশ খুলে দেব
মানুষের দুঃখ দুর্দশা বঞ্চনা নিয়ে
করেকম্মে খাওয়া
আন্দোলনের নামে ভণ্ডামি
সব ফাঁস করে দেব।

লড়াই চলবে...
অত্যাচারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
কুসংস্কার, দৈব বিশ্বাসের বিরুদ্ধে
মানবী’কে দেবী বানানোর বিরুদ্ধে।
মানুষ আজ আছে, কাল নেই।
কিন্তু মনুষ্যত্ব মরে না।
মরে যাওয়া কোনও কাজের কথা নয়।

শহিদ হয়ে ইতিহাসে নাম লেখানোর চেয়ে
অনেক জরুরি
নতুন ইতিহাস তৈরি করা।
এ বার সেই নির্মাণ কাজে হাত লাগাব।

আপনি থাকছেন তো?


পুনশ্চঃ ওরা বলছে। আমি প্রেমে পড়েছি। আমি নাকি বুড়ো বয়সে ‘বিয়ে-পাগলি’ বনে গেছি। আর এসব পরামর্শ নাকি আমাকে দিয়েছে আমার প্রেমিক। ছোঃ! আমি এত দিন কিছু খাইনি বলে কি কিছু ভাবিওনি? আমি দেখেছি। ভেবেছি। অনুভব করেছি। খিদেয় শরীর টাটিয়ে উঠেছে। চোখে নেমেছে ভারী পাথুরে ঘুম। কিন্তু মনের চোখ খুলে গেছে। আমাকে কেউই কিছু করার পরামর্শ দেয়নি। ষোলো বছর আগে অনশনের সিদ্ধান্ত ছিল আমার। তাৎক্ষণিক, ব্যক্তিগত। আজ অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তও একান্ত আমার, ব্যক্তিগত। আর হ্যাঁ, তারপরেও কেউ যদি এই পরামর্শ দিয়ে থাকে, ঠিক করেছে। বন্ধুর কাজ করেছে... অনশন করতে গিয়েই আমি চিনতে শিখেছি, কে ভাই কে দুশমন।


Sunday, May 22, 2016

people's government জনমুখী সরকার

জনমুখী সরকার প্রসঙ্গে...


২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা আদৌ প্রশংসনীয় নয়। তার বদলে, সরকার যদি র‍্যাশনিং ব্যবস্থাটা'কে পুনরজ্জীবিত করত, তাহলে, আরও বেশি উপকার হত জনসাধারণের। সেক্ষেত্রে প্রশংসা করতে আপত্তি হত না।
দ্বিতীয়ত, গ্রামের কিশোর কিশোরীদের সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা সাইকেলে চড়ে ৪-৫ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে পারবে। কিন্তু কেন তাদের অতটা যেতে হবে স্কুলে পড়তে? কেন বাড়ির কাছে স্কুল থাকবে না? শহরে দু'হাত দূরে দূরে স্কুল। অথচ সেখানেপড়ুয়া নেই। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে মাস্টার'দের মাইনে দিতে। গ্রামে আরও বেশি স্কুল হবে না কেন? সরকারি স্কুলে পড়াশোনার মান উন্নয়নের প্রশ্ন'টাও আসবে। সে ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। কী আগের সরকারের, কী এখনকার।
তৃতীয়ত, বেসরকারি স্কুল শিক্ষার ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সেখানে স্রেফ তোলাবাজি চলছে। কেউ দেখার নেই। কেন? এটাও সরকারের বিরুদ্ধেই যাবে। তাই না? শিক্ষা, স্বাস্থ্য-এর মতো জরুরি পরিষেবা' নিয়ে ব্যবসাদারি বন্ধের জন্য কোন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে?
চতুর্থত, ভোট দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল, একবার ইলেকশন কমিশন বাড়িতে এসে স্লিপ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাগরিক পরিসেবা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে কেন এই মেশিনারি ব্যবহার করা হচ্ছে না? ভোটার কার্ড রিনিউয়াল, ডিজিটাল র‍্যাশন কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তো একই তৎপরতা কাম্য ছিল। না?
মেশিনারি আছে। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বার্থে, দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে। জনসাধারণের কথা ভেবে নয়। প্রশংসা করার আগে এসব অবশ্যই ভাবতে হবে। রাস্তার ধারে নিয়ন আলোয় যুক্তি-বুদ্ধি গুলিয়ে-ধাঁধিয়ে গেলে মুশকিল।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্য নিয়েই বা কী হয়েছে? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, বাম আমলে 'বিদ্যাসাগর হাসপাতাল' ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল... এখন রংচং করা হয়েছে। কিন্তু পরিষেবা? চোখের নজর কম হলে আর কাজল দিয়ে কী হবে...

assembly election 2016 ভোট ভাবনা ২০১৬

ভোট ভাবনা ২০১৬

১। বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটের ফলাফল পুরোপুরি জনমত প্রতিফলিত করে না। নানা কারণে এই ব্যবস্থায় স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ কম। এখানে মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেওয়া হয় না। বরং ধর্ম, জাতপাত, গোষ্ঠী, দেশ ইত্যাদি নানা অজুহাতে মানুষকে নানাভাবে ‘হিসটিরিয়াগ্রস্ত’ করে তোলা হয়। সেই সূত্রে তাদের চিন্তাভাবনাকে পছন্দমতো ‘এক খাতে’ বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। এছাড়া, নানা দলীয় প্রচারের সঙ্গে আবার পুঁজির সম্পর্ক থাকে। সম্পর্ক থাকে কর্পোরেটের। কর্পোরেটের টাকা আর মিডিয়ার সৌজন্যে কোনও দল প্রচারের আলোয় থাকে, অন্যরা থাকে বাইরে। আরও কারণ আছে। (তার মানে অবশ্য এই নয় যে, পুরোপুরি জনমত প্রকাশিত হলে ফলাফল একেবারে উলটে যেত। জামানত জব্দ হয়ে যেত বিজয়ী প্রার্থীদের!)
২। তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে মানে এই নয় যে রাজ্যের মানুষের ‘নিরঙ্কুশ সমর্থন’ তাদের দিকে আছে। বড় জোর এটা বলা যায় যে, 'মন্দের ভাল' দল হিসেবে তারা বাম-কং জোটকে টেক্কা দিয়েছে। সত্যি বলতে, মানুষের সামনে সত্যিকারের ‘অপশন’ কম থাকে, এ বারও তা-ই। ৩-৪’টে দল আর ‘নোটা’র বাইরে ভোটারদের কাছে ‘পছন্দ’ করার মতো আর কী ছিল! তাই জনসাধারণ হয়তো, সাতপাঁচ ভেবে, বাম-কং জোটের চেয়ে টিএমসি’কেই ‘বেশি গ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করেছে, যেহেতু কোনও বিকল্প নেই, ছিলও না তাদের হাতে। এ সেই একদা বামেদেরই প্রচারিত ‘তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতার তত্ত্ব’! এক সময় বামেরা তাদের ক্রমহ্রাসমান বিশ্বাসযোগ্যতা ঢাকতে এই তত্ত্ব দিয়েছিল। এখন সেই তত্ত্বের ফলভোগ করছেন মমতা। ভাগ্যের, থুড়ি, ইতিহাসের কী নিদারুণ পরিহাস!
৩। সিপিএমের পরাজয় হয়েছে মানে মানুষ ‘বামপন্থা’ বা ‘মার্ক্সবাদ’কে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা নয়। মানুষ আসলে ‘সুবিধাবাদ'কে বর্জন করেছেন। অনেকেই বলছেন, ‘দুর্নীতি’ কোনো ইশ্যু হতে পারেনি। এটা খুবই উদ্বেগের। কিন্তু আমার ধারণা, ‘দুর্নীতি’ সম্পর্কেও জনসাধারণ সচেতন ছিলেন। আসলে সুবিধাবাদের গর্ভেই তো দুর্নীতির জন্ম হয়। মানুষ সম্ভবত, টিএমসি-র সুবিধাবাদ/দুর্নীতি’র চেয়েও বাম-কংগ্রেসের ‘সুবিধাবাদ’কে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করেছেন।
৪। এ রাজ্যের মানুষ যখন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা যখন নির্ভরযোগ্য 'বিকল্প' খুঁজে পান না, তখন 'স্থিতাবস্থা'তেই সায় দেন। অর্থাৎ, নেতিবাচক ভোটে ফলাফল নির্ধারিত হয়। অতীতে বহুবার বামেরা এই 'স্ট্যাটাসকো'র সুবিধা পেয়েছে। এবার পেয়েছে তৃণমূল, এই যা।
৫। ‘নোটা'য় ১.৫ পারসেনট ভোট পড়েছে। নোটার পক্ষে সরকারি, বেসরকারি কোনও স্তরেই প্রচার ছিল না। বরং উলটোটাই ছিল। তা সত্ত্বেও কম-বেশি ১০ লক্ষ মানুষ সমস্ত দল ও প্রার্থীকে বর্জন করেছে। ‘নোটা'র ভোটগুলো ছিল প্রতিনিধিত্বমুলক। অর্থাৎ এর ১০/২০/৩০ গুণ মানুষ মনে মনে 'নোটা' ভোট দিয়েছেন। এর সঙ্গে যদি যারা 'ভোট দেননি' বা 'ভোট বয়কট করেছেন'-দের যোগ করা যায়, তাহলে সংখ্যাটা খুব কম হবে না।
৬। বয়কটের ভোট+ নেতিবাচক ভোট + নোটা-- এই সব হিসেবের মধ্যে আনলে বলা যায়, মানুষ আসলে জয়ী, পরাজিত নির্বিশেষে সব দল'কেই একটি সাধারণ বার্তা দিয়েছেন... সেই বার্তা সংস্কারের, সংশোধনের, বিকল্পের।

এখন কথা হল, জনসাধারণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রাজনৈতিক ‘বারতা’কে দলগুলো গুরুত্ব দেবে কি না। তারা কি নিজেদের সংশোধন করবে? পালটাবে? নাকি তাদের যেমন বেণী তেমনি রবে? সে ক্ষেত্রে মানুষ কেই তার ‘বিকল্প সিদ্ধান্ত’ ‘নির্মাণ’ করতে হবে। সেটা তারা করবেন কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে...

protest against killing of bloggers প্রতিবাদের মুহূর্ত

প্রতিবাদের মুহূর্ত
.............................


বাংলাদেশে গত এক বছরে খুন হয়েছেন একের পর এক মুক্তমনা। এদের মধ্যে কেউ ব্লগার, কেউ অধ্যাপক, কেউ পত্রিকার সম্পাদক, কেউ আবার মানবাধিকার কর্মী। একই ঘটনা ঘটেছে, ঘটে চলেছে ভারত, পাকিস্তানেও।
ইদানীংকালে ভারতে গোবিন্দ পানসারে, এম এম কালবুরগী ও নরেন্দ্র দাভলকার হিন্দু মৌলবাদীদের হাতে খুন হন। খুব সম্প্রতি, পাকিস্তানে তালিবানি হামলায় মৃত্যু হয়েছে মানবাধিকার কর্মী খুরাম জাকি ও সাংবাদিক রাও খালিদের। এর আগেও পাকিস্তানে এমন ঘটনা ঘটেছে। যদিও বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্য দুটি দেশের তুলনায় আরও বেশি ভয়াবহ।
এসব বন্ধ হওয়ার সেভাবে কোনো পূর্বাভাসও এই মুহূর্তে নেই।
উপমহাদেশ জুড়ে এই উগ্র মৌলবাদী হিংসার বাড়বাড়ন্তে আমরা (মানে, যুক্তিবাদী-মানবতাবাদীরা) উদ্বিগ্ন। আরও উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলি মৌলবাদী হিংসা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এর ফলে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে অন্ধ হিংস্র মৌলবাদীদেরই। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও হিংসা যে হারে বাড়ছে, তাতে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে মুক্তচিন্তার পরিসর। এই পরিস্থিতি কেবল নাগরিকের নিরাপত্তা নয়, মানবসমাজের সার্বিক বিকাশের পক্ষেও ভীষণ বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর।
বস্তুত, ইদানীংকালে ভারত, পড়শি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যেভাবে মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, এমনকি সাধারণ শিক্ষক, সুফি, সমাজকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে তাতে আশঙ্কা হয়, গোটা বিশ্বটাই কি ধীরে ধীরে অসহিষ্ণু ও সহিংস মৌলবাদীদের কব্জায় চলে যাচ্ছে?
ভাবলে বিস্ময় লাগে, ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করেছে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। সেই সনদের ১৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘প্রত্যেকেরই মতামতের ও মতামত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা রয়েছে; বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ এবং যে কোনো উপায়ে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান, গ্রহণ ও জ্ঞাত করার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত৷’’ অর্থাৎ, ধর্ম-সহ যে কোনো মতে বিশ্বাসের অধিকার যেমন আছে, তেমন অবিশ্বাসের অধিকারও আছে পৃথিবীর যে কোনো নাগরিকের।
এবার ভারতের দিকে তাকান।
ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারাতেও ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’কে স্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানের ৫১(এ)(এইচ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক, ‘বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসার’কে সমস্ত নাগরিকের ‘আবশ্যিক কর্তব্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৌলবাদী চিন্তা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, হিংসা ইত্যাদি যে বিজ্ঞানমনস্কতার একেবারে উল্টো মেরুর বিষয়, সেটা মানতে নিশ্চয়ই কারও আপত্তি হবে না।
তারপরেও, আজকের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এমন উল্লম্ফনের যুগে বিজ্ঞানমনস্কতা, গণতন্ত্র ও মানবতার উপর এ-হেন মৌলবাদী হামলা কোনও যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কোনও মূল্যে এই ‘হিংসা'কে প্রতিহত করতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যুক্তি, শুভবুদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও মানবতাকে।
বিজ্ঞান ও যুক্তি চর্চার অতিদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এই ভারতীয় উপমহাদেশের। সেই ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখার দায়বদ্ধতাও আছে এই প্রজন্মের।
মনে রাখতে হবে ভিন্নস্বর, ভিন্নমত না থাকলে মানবসভ্যতা, সংস্কৃতি কোনো দিন এগোত না। কোনোদিন এগোবেও না।
মৌলবাদী হিংসা প্রতিরোধ করতে আমরা অবিলম্বে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করছি। রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশের (ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের) সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছিঃ
১। মানবাধিকার সনদ মোতাবেক, ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত, লিঙ্গ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২। রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-সহ মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিতে হবে, যাতে তারা ‘মানবাধিকার সনদ'কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মান্যতা দেয় এবং সনদের নীতি ও বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।
৩। মুক্তমনা, নাস্তিক, যুক্তিবাদী, মানবাধিকার কর্মীদের, বিশেষত যাদের হুমকির মুখে দিন কাটাতে হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে।
৪। স্বাধীনতা-হরণকারী ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশ’কে।
৫। রাষ্ট্রসংঘের নির্দেশ অমান্যকারী দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।

Monday, April 25, 2016

যুক্তিবাদীরা যদি হাম্লাবাজ হত...

বাংলাদেশে নাস্তিক, মুক্তমনা, গণতন্ত্রী, শিল্পরসিক মানুষকে ধরে ধরে চোখের সামনে খুন করছে মৌলবাদীরা। ভারতেও হচ্ছে, তবে রেখেঢেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে না... রাষ্ট্রের কোনও উদ্বেগ আছে বলেও মনে হচ্ছে না।...

এবার ধরুন, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো হল। মানে, নাস্তিক রা চাপাতি নিয়ে মৌলবাদীদের ধরে ধরে কোতল করতে শুরু করল। তাহলে কী হবে?

১। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নামবে। বলবে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। এই সরকার দূর হটো। দোষীদের শাস্তি চেয়ে ছোট বড় নেতারা বিব্রিতি দেবে। সমাবেশ, অবরোধ বন্ধ করে জনজীবন অচল করে দেবে তারা। প্রতিবাদের নামে অগ্নি সংজোগ, লুঠতরাজ, হামলা ইত্যাদির মাধ্যমে সত্যিকারের অচলাবস্থা তৈরি হবে।
২। সংবাদ মাধ্যমে সেসব ফলাও করে লেখা হবে। রিপোর্ট, এডিট, পোস্ট এডিট চলতে থাকবে। বুদ্ধিজীবীরা বিব্রিতি দেবেন। পালা করে গালাগাল দেওয়া হবে সরকার, বিরোধীদের। বলা হবে, তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্যই ধরম-বিরোধী, নাস্তিক, যুক্তিবাদীরা এমন বেলাগাম সন্ত্রাস নামিয়ে আনতে পেরেছে। আরও আরও আরও অনেক কথা।
৩। সরকার নিজের ভুল স্বীকার করে বিব্রিতি দেবে। আশ্বাস দেবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। এবং সত্যি সত্যিই তা-ই করবে।
৪। ধর্মীয় সংগঠনগুলো রাস্তায় নামবে কিছু শান্তির বাণী শোনাতে, কিছু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলে।
৫। পুলিশ ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নাস্তিক, অনাস্তিক চিন্তাশীল, যুক্তিবাদী, অজুক্তিবাদী কিন্তু প্রতিবাদী, আস্তিক কিন্তু যুক্তিবাদী চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল... নির্বিশেষে সব্বাইকে ধরে নাসা, তাডা, ইউএপিএ গোছের আইনে জেলে পুরে দেবে।
৬। আর সত্যিকারের যারা নিরীশ্বরবাদী আন্দোলনের মাথা, তাত্ত্বিক, তাঁদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করবে পুলিশের শারপ শুটাররা। নাস্তিক পরিবারের মেয়েদের ধরে ধরে ধর্ষণ করা হবে।
৭। সংবাদমাধ্যম, বুদ্ধিজীবীরা এরও একটু আধটু বিরোধিতা করবে, নিরপেক্ষতার স্বার্থে।
৮। কিছু ক্ষেত্রে কমিশন-টমিশন তৈরি হবে।
৯। এর পর নাস্তিকতা সংক্রান্ত যাবতীয় বইপত্র, সিনেমা, ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে...
১০। আর শেষমেশ যদি প্রয়োজন হয়, নাস্তিকদের দমনে সেনা নামানো হবে...
যা কখনই হবে না... মৌলবাদী' হিংসাকে রোখার জন্য...
এর নাম নিপীড়ক রাষ্ট্র...

Sunday, April 10, 2016

মৌলবাদী হিংসা ও খুনোখুনির বিরুদ্ধে AGAINST RELIGIOUS FUNDAMENTALISM sudipmoitra

মৌলবাদী হিংসা ও খুনোখুনির বিরুদ্ধে
...................................................
কথায় বলে, সব কিছুরই একটা সীমা আছে। কিন্তু দেখছি, মৌলবাদী অসভ্যতা, হিংসার কোনও সীমা নেই।
ধর্ম ও মৌলবাদী গোঁড়ামির সমালোচনা করায় একের পর এক খুন হতে হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তমনা যুক্তিবাদী ‘ব্লগার’দের। আরও অজস্র ব্লগারের মাথার ওপর খাঁড়া ঝুলছে। বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার মদত দিচ্ছে মৌলবাদী খুনিদেরই। পড়শি দেশটাতে ইসলামি মৌলবাদের দাপট এতটাই যে, রাতারাতি ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের যুগে এটা ভাবা যায়! যুক্তি ও বাস্তবতার দিক থেকে ভয়াবহভাবে পশ্চাৎপদ ‘ধর্ম’ কীভাবে আধুনিক জনজীবনের ‘প্রধান ধারা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা ভেবে কুলকিনারা পাওয়া যায় না।
ভারতেও হিন্দু মৌলবাদীদের আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রভাবাধীন ‘বিজেপি’ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দুত্ববাদীদের লম্ফঝম্ফ বেলাগাম হয়ে গিয়েছে। গোমাংস বিতর্কের সূত্রে মহম্মদ ইখলাক হত্যাকাণ্ড, দলিত নির্যাতন ইশ্যুতে রোহিত ভেমুলার মৃত্যু (কেবল ‘আত্মহত্যা’ বললে ব্যাপারটা লঘু হয়ে যায়, এটা আর একটা ‘হত্যা’, অবশ্যই), কিংবা জাতীয়তাবাদ ইশ্যুতে জওহরলাল নেহরু বিস্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কানহাইয়া কুমার ও তাঁর সঙ্গীদের গ্রেফতারির ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, সুযোগ পেলে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরাও হিংসা ও খুনের রাজনীতিতে বাংলাদেশি মুসলিম মৌলবাদীদের টেক্কা দিতে পারে! পারলে তারাও হাতে মাথা কাটে ভারতীয় মুক্তমনা, যুক্তিবাদীদের। তেমন ঘটনা যে ঘটছে না, তা-ও তো নয়। নরেন্দ্র দাভলকর, গোবিন্দ পানসারে, এমএম কুলবর্গী হত্যাকাণ্ডের পিছনে তো হিন্দু মৌলবাদী শক্তিরই হাত ছিল।
তাহলে এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কী? করণীয় একটাই। ধর্মীয় মৌলবাদী হিংসা, জাতপাতের হানাহানি, সাম্প্রদায়িকতার সর্বান্তঃকরণে নিন্দা করা, যেকোনো মূল্যে মানবিক মূল্যবোধ, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের চর্চা চালিয়ে যাওয়া, যে কোনও ধরনের যুক্তিহীনতা, গোঁড়ামি ও অবিজ্ঞানের বিরোধিতা করা এবং ‘যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া’ ভেবে নিয়ে সেই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ানো...
বন্ধু আর দেরি নয়। চলুন... শত্রু-মিত্র চিনে নিই... মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, নাস্তিক, কমিউনিস্ট’রা ঐক্যবদ্ধ হই...
.................................
১৪ এপ্রিল মানে পয়লা বৈশাখ কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এর কাছে... ধর্ম মৌলবাদ জাতপাত বিরোধী যুক্তিবাদী জমায়েত... সকাল থেকে দিনভর... বন্ধু, তুমিও এসো
মূল জমায়েতটা বিকেল ৫ টায় হবে...
.................................

Wednesday, March 30, 2016

প্রসংঃ ইসলামিক বাংলাদেশ

এতদিন ঘোমটা দিয়ে খেমটা হচ্ছিল। এবার খুল্লমখুল্লা...
না নাচলে যাবে তোমার কল্লা।
হায় মুক্তিযুদ্ধ হায় একুশে ফেব্রুয়ারি...
ভাষা নিয়ে ভাসা ভাসা যুদ্ধের এখানেই দাঁড়ি।
পাকিস্তানের থেকে স্বাধীন হয়ে শেষে হলি পাকিস্তানেরই দাসী
(বাঙালি নয়, আজ থেকে তুমি স্রেফ বাংলাদেশি বাংলাভাষী)
আর কি বলতে পারবঃ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি?

ক্ষতি কী, না হয় ভোট না দিলে: vote for NOTA

ক্ষতি কী, না হয় ভোট না দিলে
...........................
আসন্ন ভোটে যে দলই জিতুক, গোহারা হবে মানুষ, সাধারণ মানুষ। এটা একেবারে নিশ্চিত।
কেন? কারণটা খুব সোজা।
মানুষ সিপিএম কংগ্রেস তৃণমূল বিজেপি কাউকেই চায় না। অন্তত মন থেকে তো নয় ই।
যারা সারদা-নারদা করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, যারা দু হাত পেতে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার পরেও এত্তুটকু লজ্জিত হয় না, বরং দু কান এঁটো হাসি হেসে দাঁত কেলিয়ে কখনো বলে অনুদান, কখনো বলে জাল ভিডিয়ো, কখনো হাওয়ালা (কী জ্বালা!), তারপর দ্বিধাহীন ভাবে ভোট চাইতে পারে-- তাদের মানুষ, সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ বিশ্বাস করবে, শ্রদ্ধা করবে, ভোট দেবে-- এটা ভাবা যায় না।
আর সিপিএম? ওরা ক্ষমতা-খিদেয় ভুগছে। জীবনের সেরা সময়টা ক্ষমতার শাঁসে-জলে থেকে অভ্যস্ত মন্ত্রী-নেতারা যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে। তার জন্য কংগ্রেসও আচ্ছা। কংগ্রেসি জমনায় যে ১১০০ কর্মী হত্যার ফিরিস্তি শোনা যেত এক সময় জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্তদের মুখে, সেসব এখন নিছক ধুলোপড়া পেপার-কাটিং...। নিজেদের অতীতের ভুল, অন্যায়, গুণ্ডামি (বিস্তর তালিকা দেওয়া যায়) ইত্যাদি বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার না করে, নিজেদের নীচতা, কুশ্রীতা, কদর্য কুদুলেপনা, দাদাগিরি ও পদে পদে ভণ্ডামি ইত্যাদি স্বভাব এতটুকু না শুধরে, এবং এবং জনসাধারণের কাজে লাগে এমন কোনও সত্যিকারের আন্দোলন না করেই তারা ক্ষমতায় ফিরতে চায়, চাইছে, কেবলমাত্র ‘মমতা খারাপ, মমতার দল চোর, গুন্ডা, ঘুষখোর’ এহেন প্রচারের ধোঁয়া দিয়েই। এই ভোট সর্বস্ব দলটার কাছে ক্ষমতাই সব, বাকি সব মায়া (অথবা, মমতা!)। এরা ক্ষমতায় এলে কী হতে পারে, মানুষের জানতে বাকি নেই। এদের মানুষ বিশ্বাস করবে, পাগল (অথবা ছাগলেও) বিশ্বাস করবে? কী মনে হয়!!!
আর কংগ্রেস,বিজেপি'কে নিয়ে আলোচনা করারই কোনও মানে হয় না...
তাই বলছিলাম, ভোট যখন হচ্ছে, খেলার নিয়মেই, কেউ না কেউ তো জিতবেই... কিন্তু তাতে আমাদের (মানে, জনসাধারণের) অষ্টরম্ভা...
যে জিতবে, সে-ই আমাদের ‘দেখে নেবে’... হাতে বা ভাতে ক্যালানোর ‘মোডাস অপারেনডি’ তাদের যা-ই হোক, মার তো একটাও বাইরে পড়বে না!!
অর্থাৎ? অর্থাৎ হয় দলে ভেড়ো, নয় তো একদম গুটিয়ে যাও। একনিষ্ঠ চামচা আর মড়ার কোনও শত্রু হয় না।
তবে নিরপেক্ষ হয়ো না... কারণ নিরপেক্ষতা মানে যুক্তি বুদ্ধি ন্যায় সততা বিবেকের পক্ষে থাকা। নিরপেক্ষ হওয়া খুব কঠিন... সেটা হতে দেওয়া যাবে না... হলেই ‘মাওবাদী’ বলে জটায়ুর মতো ‘ঠাই ঠাই ঠাই ঠাই ঠাই’...

Thursday, March 10, 2016

মৌলবাদী বজ্জাত দাঙ্গাবাজদের কীভাবে চিনবেন

মৌলবাদী বজ্জাত দাঙ্গাবাজদের কীভাবে চিনবেন
....................................................................

ধরুন, খেলার মাঠে 'অফ সাইডে গোল' করা নিয়ে সেন্টার ফরওয়ার্ড রামের সঙ্গে সাইডব্যাক রহিমের গোলমাল হয়েছে।
একজন সাধারণ দর্শক কী করবে? সে রেফারির সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেবে। এবং সে চাইবে, রাম-রহিম'ও সেটা মেনে নিক। না মানলে, রেফারি তাদের লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিক।
কিন্তু একজন গোঁড়া মৌলবাদী বজ্জাত দাঙ্গাবাজ দর্শক কী করবে? 'গোলমাল'টা যে নিছক খেলা নিয়ে, সে সেটাই প্রথমে চেপে যাবে বা স্রেফ গুরুত্ব দেবে না। গোলমালের প্রেক্ষিত বাদ দিয়ে সে বলবে, 'গোলমাল'টা হয়েছে হিন্দুর সঙ্গে মুসলিমের। এবং এটা পূর্ব পরিকল্পিত।
তারপর সে পছন্দসই একজনের পক্ষ নিয়ে নেবে এবং প্রাণপণে হাজারো কুজুক্তি টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা করবে, উল্টোপক্ষ কত বদমাশ। তাদের স্বভাবই গোলমাল পাকানো। এই ঘটনার জন্য রাম (বা, রহিম) এর গোষ্ঠীই প্রকৃতপক্ষে নাটেরগুরু, দোষী।
দাঙ্গাবাজ দর্শকটি তিলকে তাল করবে... নিজের কোলে ঝোল টেনে রং চড়াবে। সে পুরো ঘটনাটাকে দেখবে নিজের গোষ্ঠীধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে... আর সেই মতো অন্য দর্শকদেরও সে উস্কানি দেবে, যাতে তারা রাম (বা রহিম)-এর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংস ব্যবস্থা নেয়...
বীরভূমের ইলম বাজারের ঘটনা উপলক্ষে ঠিক এই কাজটাই করছে সংশ্লিষ্ট দুটি গোষ্ঠীর অন্ধ, অশিক্ষিত, গোঁড়া, মৌলবাদী দাঙ্গাবাজ'রা।
ফেসবুকেও এই 'ন্যাকাপড়া জানা অশিক্ষিত কুচক্রী দাঙ্গাবাজ' অংশটাকে দেখা যাচ্ছে...
এরা আলতুফালতু অবান্তর কথা বলে আপনাকে অপমান করে রাগিয়ে তাতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে...
এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন... শনাক্ত করে অন্যদের জানিয়ে দিন..।।
খেয়াল রাখুন...
কোনোভাবেই এদের প্ররোচনায় পা দেবেন না...
কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া চলবে না...
এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।।

পালটি'ওয়ালাদের মনে রেখে

পালটি'ওয়ালাদের মনে রেখে
.......................................
এক সিনিয়র সাংবাদিক দাদা...
বাম জমানায় তিনি খুলেআম বিরোধিতা করতেন কংগ্রেস, পরের দিকে বিশেষত তৃণ মুলের।
তারপর বাম গেল তৃণ এল...
তিনি এবার খুলেআম বিরোধিতা শুরু করলেন সিপিএম এবং তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের।
একদিন দেখা... রাস্তায়...
কী ... দাদা? আপনি না কমিউনিস্ট... সিপিএমের ঘরের ছেলে... এসব কী লিখছেন!... এই মমতাকেই তো এক সময় কী না বলেছেন... এখন পালটি?...
দাদা একগাল হেসে বল্লেনঃ আরে না রে। যা ভাবছিস তা নয়... আমি পালটি খাইনি। পালটি খেয়েছে সরকার... আমি বরাবর সরকার পক্ষে ছিলাম, আছি, থাকব...

Saturday, February 20, 2016

দেশপ্রেমঃ কোথায় পাব তারে nationalism versus patriotism

দেশপ্রেমঃ কোথায় পাব তারে
....................................................................................

রাজনীতির গণিত (অপাঠ্যসূচি)
...................................................
নেশন =/= হোমল্যান্ড
ন্যাশনালিজম =/= প্যাটরিওটিজম
রাষ্ট্র =/= দেশ
রাষ্ট্রদ্রোহিতা =/= দেশদ্রোহিতা
ভারত =/= ইনডিয়া
[=/= এর অর্থ 'নট ইকোয়াল টু']
....................................................................................

৮-এর দশকের শেষের দিক থেকে রাজনীতি, সমাজ নিয়ে জোরদার বিতর্ক শুরু করেছি। কিন্তু সবিস্ময়ে দেখছি, গত তিন দশকে আমরা একটুও এগোতে পারিনি।
তখনও যেভাবে দেশ, দেশপ্রেম, জাতি, জাতীয়তাবাদ, জাতিসত্তা, রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ইত্যাদি প্রশ্নগুলো আসত, এখনো দেখছি, সেখানেই ঘুরপাক খাচ্ছে বিতর্কগুলো। শুধু 'পলিটিকাল ফেস'গুলো বদলে গিয়েছে, যাচ্ছে।
'দেশ' মানে কী? দেশের মাটি? একটা বাজেভাবে ব্যালা 'পরোটা'র মতো মানচিত্র? একটা দড়ি, একটা লাঠি আর একটা রংচঙে ন্যাকরা? নাকি, দেশ মানেঃ দেশের মানুষ-- খেটে খাওয়া মানুষ-- কৃষক, শ্রমিক, সরকারি বেসরকারি অসংগঠিত ক্ষেত্রের সাধারণ কর্মী শ্রমজীবী জনসাধারণ?
দেশ যদি নিছক একটা ভূখণ্ড হয় মাটি হয়, তাহলে জমির দালাল আর প্রোমোটাররাই তো সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক!
কিন্তু তা তো নয়। 'দেশ' মানে 'দেশের মানুষ''দেশপ্রেম' মানে 'দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা'এই দেশ আর রাষ্ট্র এক জিনিস নয়। রাষ্ট্র তো নিছক একটা কমিটি, একটা সংস্থা, যা শাসক শ্রেণির হাতের পুতুল। রাষ্ট্র দেশ বলতে যা বোঝায়, 'দেশ' মানে মোটেই তা নয়। 'দেশ' আর 'রাষ্ট্র' সমার্থক হতে পারে না।
রাষ্ট্র মানে নেশন। নেশন থেকে ন্যাশ্নালিজম। মানে, জাতীয়তাবাদ। ন্যাশ্নালিজম মানে রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালবাসা। কিন্তু কখনই তাকে 'দেশপ্রেম' বলা যাবে না।
আর 'জাতীয়তাবাদ' কথাটাও খুব দুর্বোধ্য, গোলমেলে। কারণ, এর সঙ্গে 'জাতি', 'জাতিসত্তার ধারণা' ইত্যাদির কোনও সম্পর্কই নেই। জোর করে টেনে হিঁচড়ে 'ভারত' নামে একটা 'রাষ্ট্র' বা 'নেশন' বানানোই যায়। ভারতীয় বলে একটা 'পরিচয়' দেগেও দেওয়া যায় সে ভূখণ্ডের বসবাস্কারীদের গায়ে। কিন্তু বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সহস্রাধিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে এক ছাঁচে ঢেলে ফেলা যায় না। 'জাতীয় সংহতি', শান্তি তথা 'দেশের অখণ্ডতা' রক্ষার ধুয়ো তুলে তাদের পিটিয়ে সিধে করার যাবতীয় ব্যবস্থা সত্ত্বেও না।
ভারত হওয়ার আগে 'ভারত' কী ছিল, এবং সুলতান, মুঘল, ব্রিটিশ যুগ পেরিয়ে সেই 'ভারত' কী হল, তা কিছুতেই বোঝা যাবে না এই উপমহাদেশের ইতিহাস বস্তুনিষ্ঠ ভাবে তন্ন করে না ঘাঁটলে। কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা পেটরোগা তথাকথিত 'ভারতীয় জাতি' সেই কষ্টস্বীকার করছে না, করবে না। তারা ঐ 'নেহরু-প্যাটেলের ছবি ও সই দেখে' আগ্মারকা বাজারি সস্তা জাতীয়তাবাদের বড়ি এনেই গিলবে। ঠিকঠাক যুক্তি, তথ্য, ইতিহাস তাদের সহ্য হয় না... কার পেটে যেন কী সহ্য হয় না!!
এই কারণেই বাবরি ভাঙার পরেও বাজপেয়ী-আদবানি'রা, গোধ্রা'র পরেও মোদি-রাজনাথের মতো লোকজন কেন্দ্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে যায়... সেই কারণেই কাশ্মীরে শান্তি রক্ষায় প্রতি ৪ জন নাগরিক পিছু ১ জন সশস্ত্র সেনা সর্বক্ষণ পিছনে লাগিয়ে রাখতে হয়... সেই কারণেই, জাতীয়তাবাদের মিথ্যে প্রচারে জেলে যেতে হয় কানহাইয়া কুমারদের...
জনসাধারণ ন্তুন করে না ভাবলে... একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি হবে ইতিহাসের। আরও ৩০ বছর বাদে এই একই জিনিস একই ভাবে ঘটবে... গ্যারান্টি। তবে তখনও কেবল ঐ মুখগুলো বদলে যাবে, এই যা!


Tuesday, February 16, 2016

প্রসঙ্গ কাশ্মীর

প্রসঙ্গ জে এন ইউ...

জেএনইউ নিয়ে এত গোলমালই হত না, যদি ভারত সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী দেশ হত...।

তা তো তারা নয়। তাই সমস্যা এখানেই...

সংখ্যাগুরুর পছন্দসই মত না দিলেই, তুমি দেশবিরোধী, জঙ্গি!

একটা কার্টুন আঁকলে, বা দু’লাইনের বিরোধী মতামত দিলেও এখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দি হয়ে থাকতে হতে পারে...

সত্যি বলতে কী, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে আগাগোড়া ভুল বোঝানো হয়েছে দেশের জনসাধারণ’কে। ব্যক্তি স্বাধীনতা, জাতিসত্তার স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ রাখা হয়নি তথাকথিত ভারতীয় গণতন্ত্রে। এর ফলে ব্যাপক মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়, তা নানা ইস্যুতে বেরিয়ে আসে। তখন ‘তুমি বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘তুমি মাওবাদী’, ‘তুমি সন্ত্রাসবাদী’, ‘তুমি দেশবিরোধী’, ‘তুমি অশান্তি করতে চাইছ’, ‘তুমি উন্নয়নবিরোধী’--- এসব বলে মুখচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্র ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ ও বাজনদাররা। কিন্তু তাতে সত্য চাপা পড়ে না। নরেন্দ্র মোদী তো বলেছেন, তিনি সাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কোনও বিষয়ে আলোচনাতেই তাঁর বাধা নেই।

বেশ। তাহলে নেহরু-প্যাটেলের কংগ্রেস যে ভুল (বলা উচিত, অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা) করেছিল কাশ্মীরি মানুষের সঙ্গে, সেই ক্ষমার অযোগ্য ‘ভুল’ শুধরে তিনি কাশ্মীর নিয়ে গণবিতর্ক ডাকুন... সবার মতামত নিন... ইতিহাসের দিকে চোখ রাখুন। যুক্তিপূর্ণ ও বস্তুবাদী ইতিহাসের দিক নির্দেশ মেনে কাশ্মীর সমস্যার (অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে) ফয়স্লা করুন। কেবল নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলবে না... আর মিথ্যে জাতীয়তাবাদী (যা ক্রমশই হিন্দু জাতীয়তাবাদী জিগিরে পর্যবসিত হয়েছে, হচ্ছে) ধুয়ো তুলে দলীয় কিছু লাভ হতে পারে বটে, কিন্তু তা দিয়ে মানুষকে বেশিদিন বোকা বানানো হয়তো আর সম্ভব হবে না।

আরও একটা কথা...

আমি নিশ্চিত, জেএন ইউ-এর ঘটনায় সংসদীয় দলগুলো জড়িয়ে গিয়েছে বলেই এ নিয়ে এত শোরগোল হচ্ছে... মিডিয়ায় ও সেই কারণেই পথেঘাটেও। প্রধানমন্ত্রীও ‘সর্বদল’ ডেকেছেন এও কারণেই। এটা যদি ‘অন্যধারা’ বা ‘নির্দল’দের ব্যাপারস্যাপার হত, তাহলে মিডিয়াও এত চেঁচাত না... রাজনৈতিক দলগুলোও এত সক্রিয় হত না। ধৃত ছাত্রদের জীবন সবার চোখের আড়ালে নিঃশব্দে ছত্রখান হয়ে যেত...

'সর্বঘটের কাঁঠালিকলারা' মোদীর সরবদল বৈঠকে গিয়ে কী বলেছেন, তা জানি না (জানি, কিন্তু মিডিয়া যেটুকু জানে, সেটুকুই) ... তবে তারা যে কাশ্মীরি জাতিসততার সুরক্ষা, স্বাধীনতা, মানুষের স্বাভাবিক মানবিক মর্যাদা ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আবশ্যিকতার প্রশ্নটা তোলেননি, এটা একেবারে নিশ্চিত!!

প্রসঙ্গ জেএনইউ

প্রসঙ্গ জে এন ইউ...

জেএনইউ নিয়ে এত গোলমালই হত না, যদি ভারত সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী দেশ হত...।

তা তো তারা নয়। তাই সমস্যা এখানেই...

সংখ্যাগুরুর পছন্দসই মত না দিলেই, তুমি দেশবিরোধী, জঙ্গি!

একটা কার্টুন আঁকলে, বা দু’লাইনের বিরোধী মতামত দিলেও এখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দি হয়ে থাকতে হতে পারে...

সত্যি বলতে কী, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে আগাগোড়া ভুল বোঝানো হয়েছে দেশের জনসাধারণ’কে। ব্যক্তি স্বাধীনতা, জাতিসত্তার স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ রাখা হয়নি তথাকথিত ভারতীয় গণতন্ত্রে। এর ফলে ব্যাপক মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়, তা নানা ইস্যুতে বেরিয়ে আসে। তখন ‘তুমি বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘তুমি মাওবাদী’, ‘তুমি সন্ত্রাসবাদী’, ‘তুমি দেশবিরোধী’, ‘তুমি অশান্তি করতে চাইছ’, ‘তুমি উন্নয়নবিরোধী’--- এসব বলে মুখচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্র ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ ও বাজনদাররা। কিন্তু তাতে সত্য চাপা পড়ে না। নরেন্দ্র মোদী তো বলেছেন, তিনি সাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কোনও বিষয়ে আলোচনাতেই তাঁর বাধা নেই।

বেশ। তাহলে নেহরু-প্যাটেলের কংগ্রেস যে ভুল (বলা উচিত, অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা) করেছিল কাশ্মীরি মানুষের সঙ্গে, সেই ক্ষমার অযোগ্য ‘ভুল’ শুধরে তিনি কাশ্মীর নিয়ে গণবিতর্ক ডাকুন... সবার মতামত নিন... ইতিহাসের দিকে চোখ রাখুন। যুক্তিপূর্ণ ও বস্তুবাদী ইতিহাসের দিক নির্দেশ মেনে কাশ্মীর সমস্যার (অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে) ফয়স্লা করুন। কেবল নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলবে না... আর মিথ্যে জাতীয়তাবাদী (যা ক্রমশই হিন্দু জাতীয়তাবাদী জিগিরে পর্যবসিত হয়েছে, হচ্ছে) ধুয়ো তুলে দলীয় কিছু লাভ হতে পারে বটে, কিন্তু তা দিয়ে মানুষকে বেশিদিন বোকা বানানো হয়তো আর সম্ভব হবে না।

আরও একটা কথা...

আমি নিশ্চিত, জেএন ইউ-এর ঘটনায় সংসদীয় দলগুলো জড়িয়ে গিয়েছে বলেই এ নিয়ে এত শোরগোল হচ্ছে... মিডিয়ায় ও সেই কারণেই পথেঘাটেও। প্রধানমন্ত্রীও ‘সর্বদল’ ডেকেছেন এও কারণেই। এটা যদি ‘অন্যধারা’ বা ‘নির্দল’দের ব্যাপারস্যাপার হত, তাহলে মিডিয়াও এত চেঁচাত না... রাজনৈতিক দলগুলোও এত সক্রিয় হত না। ধৃত ছাত্রদের জীবন সবার চোখের আড়ালে নিঃশব্দে ছত্রখান হয়ে যেত...

'সর্বঘটের কাঁঠালিকলারা' মোদীর সরবদল বৈঠকে গিয়ে কী বলেছেন, তা জানি না (জানি, কিন্তু মিডিয়া যেটুকু জানে, সেটুকুই) ... তবে তারা যে কাশ্মীরি জাতিসততার সুরক্ষা, স্বাধীনতা, মানুষের স্বাভাবিক মানবিক মর্যাদা ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আবশ্যিকতার প্রশ্নটা তোলেননি, এটা একেবারে নিশ্চিত!!

Saturday, January 23, 2016

রোহিত ভেমুলাঃ জাতপাতের রাজনীতির বলি


কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলন কেন জরুরি

কেন কুসংস্কার-বিরোধী আন্দোলন জরুরি...

সার্বিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ছাড়া উন্নয়ন হয় না... অশিক্ষিত ও রুগ্ন নাগরিকদের নিয়ে দেশ এগোতে পারে না... বিনামুল্যে সার্বিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে হবে সরকার, রাষ্ট্রকে।

একই সঙ্গে, নির্মূল করতে হবে যাবতীয় কুসংস্কার, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও গোঁড়ামিকেও।

কারণ, একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, কুসংস্কার নিছক ভ্রান্ত বিশ্বাস বা ধারণা নয়। কুসংস্কার খুব ক্ষতিকর জীবাণুর মতো, যা উন্নতির দুই প্রধান স্তম্ভ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য চিন্তাকে ঝুরঝুরে, নড়বড়ে করে দেয়...

কুসংস্কার আর্থিক, শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে চরম ক্ষতি করে আমজনতার। এটা হয় নিঃশব্দে, কিন্তু একেবারে নিশ্চিত ভাবে। কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসই মূলত ধর্মীয় গোঁড়ামি, পারস্পরিক বিদ্বেষ, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা, বিচ্ছিন্নতা ও হিংসার জন্ম দেয়।

আর্থ
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে উন্নত, সংহত ও উজ্জ্বল ভারত গড়ে তুলতে হলে কুসংস্কারকে নির্মূল করতে হবে... বিজ্ঞান মনস্কতা ছড়িয়ে দিতে হবে সমাজের সর্বস্তরে, সমস্ত কাজের মধ্যে...


সোজা কথা বৈজ্ঞানিক শিক্ষা বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে 'সায়েন্টিফিক টেম্পার' ('বিজ্ঞান বুদ্ধি', সৌজন্যঃ 'পরশুরাম' রাজশেখর বসু) তৈরি করতে হবে... আর সেটা কিছু দেশবিরোধী, সংবিধানবিরোধীও হবে না!! [দ্রষ্টব্যঃ ভারতীয় সংবিধানের ৫১ (এ) এইচ ধারা]