Saturday, February 20, 2016

দেশপ্রেমঃ কোথায় পাব তারে nationalism versus patriotism

দেশপ্রেমঃ কোথায় পাব তারে
....................................................................................

রাজনীতির গণিত (অপাঠ্যসূচি)
...................................................
নেশন =/= হোমল্যান্ড
ন্যাশনালিজম =/= প্যাটরিওটিজম
রাষ্ট্র =/= দেশ
রাষ্ট্রদ্রোহিতা =/= দেশদ্রোহিতা
ভারত =/= ইনডিয়া
[=/= এর অর্থ 'নট ইকোয়াল টু']
....................................................................................

৮-এর দশকের শেষের দিক থেকে রাজনীতি, সমাজ নিয়ে জোরদার বিতর্ক শুরু করেছি। কিন্তু সবিস্ময়ে দেখছি, গত তিন দশকে আমরা একটুও এগোতে পারিনি।
তখনও যেভাবে দেশ, দেশপ্রেম, জাতি, জাতীয়তাবাদ, জাতিসত্তা, রাষ্ট্র, স্বাধীনতা ইত্যাদি প্রশ্নগুলো আসত, এখনো দেখছি, সেখানেই ঘুরপাক খাচ্ছে বিতর্কগুলো। শুধু 'পলিটিকাল ফেস'গুলো বদলে গিয়েছে, যাচ্ছে।
'দেশ' মানে কী? দেশের মাটি? একটা বাজেভাবে ব্যালা 'পরোটা'র মতো মানচিত্র? একটা দড়ি, একটা লাঠি আর একটা রংচঙে ন্যাকরা? নাকি, দেশ মানেঃ দেশের মানুষ-- খেটে খাওয়া মানুষ-- কৃষক, শ্রমিক, সরকারি বেসরকারি অসংগঠিত ক্ষেত্রের সাধারণ কর্মী শ্রমজীবী জনসাধারণ?
দেশ যদি নিছক একটা ভূখণ্ড হয় মাটি হয়, তাহলে জমির দালাল আর প্রোমোটাররাই তো সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক!
কিন্তু তা তো নয়। 'দেশ' মানে 'দেশের মানুষ''দেশপ্রেম' মানে 'দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা'এই দেশ আর রাষ্ট্র এক জিনিস নয়। রাষ্ট্র তো নিছক একটা কমিটি, একটা সংস্থা, যা শাসক শ্রেণির হাতের পুতুল। রাষ্ট্র দেশ বলতে যা বোঝায়, 'দেশ' মানে মোটেই তা নয়। 'দেশ' আর 'রাষ্ট্র' সমার্থক হতে পারে না।
রাষ্ট্র মানে নেশন। নেশন থেকে ন্যাশ্নালিজম। মানে, জাতীয়তাবাদ। ন্যাশ্নালিজম মানে রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা, ভালবাসা। কিন্তু কখনই তাকে 'দেশপ্রেম' বলা যাবে না।
আর 'জাতীয়তাবাদ' কথাটাও খুব দুর্বোধ্য, গোলমেলে। কারণ, এর সঙ্গে 'জাতি', 'জাতিসত্তার ধারণা' ইত্যাদির কোনও সম্পর্কই নেই। জোর করে টেনে হিঁচড়ে 'ভারত' নামে একটা 'রাষ্ট্র' বা 'নেশন' বানানোই যায়। ভারতীয় বলে একটা 'পরিচয়' দেগেও দেওয়া যায় সে ভূখণ্ডের বসবাস্কারীদের গায়ে। কিন্তু বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সহস্রাধিক জনগোষ্ঠীর মানুষকে এক ছাঁচে ঢেলে ফেলা যায় না। 'জাতীয় সংহতি', শান্তি তথা 'দেশের অখণ্ডতা' রক্ষার ধুয়ো তুলে তাদের পিটিয়ে সিধে করার যাবতীয় ব্যবস্থা সত্ত্বেও না।
ভারত হওয়ার আগে 'ভারত' কী ছিল, এবং সুলতান, মুঘল, ব্রিটিশ যুগ পেরিয়ে সেই 'ভারত' কী হল, তা কিছুতেই বোঝা যাবে না এই উপমহাদেশের ইতিহাস বস্তুনিষ্ঠ ভাবে তন্ন করে না ঘাঁটলে। কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা পেটরোগা তথাকথিত 'ভারতীয় জাতি' সেই কষ্টস্বীকার করছে না, করবে না। তারা ঐ 'নেহরু-প্যাটেলের ছবি ও সই দেখে' আগ্মারকা বাজারি সস্তা জাতীয়তাবাদের বড়ি এনেই গিলবে। ঠিকঠাক যুক্তি, তথ্য, ইতিহাস তাদের সহ্য হয় না... কার পেটে যেন কী সহ্য হয় না!!
এই কারণেই বাবরি ভাঙার পরেও বাজপেয়ী-আদবানি'রা, গোধ্রা'র পরেও মোদি-রাজনাথের মতো লোকজন কেন্দ্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে যায়... সেই কারণেই কাশ্মীরে শান্তি রক্ষায় প্রতি ৪ জন নাগরিক পিছু ১ জন সশস্ত্র সেনা সর্বক্ষণ পিছনে লাগিয়ে রাখতে হয়... সেই কারণেই, জাতীয়তাবাদের মিথ্যে প্রচারে জেলে যেতে হয় কানহাইয়া কুমারদের...
জনসাধারণ ন্তুন করে না ভাবলে... একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি হবে ইতিহাসের। আরও ৩০ বছর বাদে এই একই জিনিস একই ভাবে ঘটবে... গ্যারান্টি। তবে তখনও কেবল ঐ মুখগুলো বদলে যাবে, এই যা!


Tuesday, February 16, 2016

প্রসঙ্গ কাশ্মীর

প্রসঙ্গ জে এন ইউ...

জেএনইউ নিয়ে এত গোলমালই হত না, যদি ভারত সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী দেশ হত...।

তা তো তারা নয়। তাই সমস্যা এখানেই...

সংখ্যাগুরুর পছন্দসই মত না দিলেই, তুমি দেশবিরোধী, জঙ্গি!

একটা কার্টুন আঁকলে, বা দু’লাইনের বিরোধী মতামত দিলেও এখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দি হয়ে থাকতে হতে পারে...

সত্যি বলতে কী, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে আগাগোড়া ভুল বোঝানো হয়েছে দেশের জনসাধারণ’কে। ব্যক্তি স্বাধীনতা, জাতিসত্তার স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ রাখা হয়নি তথাকথিত ভারতীয় গণতন্ত্রে। এর ফলে ব্যাপক মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়, তা নানা ইস্যুতে বেরিয়ে আসে। তখন ‘তুমি বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘তুমি মাওবাদী’, ‘তুমি সন্ত্রাসবাদী’, ‘তুমি দেশবিরোধী’, ‘তুমি অশান্তি করতে চাইছ’, ‘তুমি উন্নয়নবিরোধী’--- এসব বলে মুখচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্র ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ ও বাজনদাররা। কিন্তু তাতে সত্য চাপা পড়ে না। নরেন্দ্র মোদী তো বলেছেন, তিনি সাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কোনও বিষয়ে আলোচনাতেই তাঁর বাধা নেই।

বেশ। তাহলে নেহরু-প্যাটেলের কংগ্রেস যে ভুল (বলা উচিত, অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা) করেছিল কাশ্মীরি মানুষের সঙ্গে, সেই ক্ষমার অযোগ্য ‘ভুল’ শুধরে তিনি কাশ্মীর নিয়ে গণবিতর্ক ডাকুন... সবার মতামত নিন... ইতিহাসের দিকে চোখ রাখুন। যুক্তিপূর্ণ ও বস্তুবাদী ইতিহাসের দিক নির্দেশ মেনে কাশ্মীর সমস্যার (অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে) ফয়স্লা করুন। কেবল নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলবে না... আর মিথ্যে জাতীয়তাবাদী (যা ক্রমশই হিন্দু জাতীয়তাবাদী জিগিরে পর্যবসিত হয়েছে, হচ্ছে) ধুয়ো তুলে দলীয় কিছু লাভ হতে পারে বটে, কিন্তু তা দিয়ে মানুষকে বেশিদিন বোকা বানানো হয়তো আর সম্ভব হবে না।

আরও একটা কথা...

আমি নিশ্চিত, জেএন ইউ-এর ঘটনায় সংসদীয় দলগুলো জড়িয়ে গিয়েছে বলেই এ নিয়ে এত শোরগোল হচ্ছে... মিডিয়ায় ও সেই কারণেই পথেঘাটেও। প্রধানমন্ত্রীও ‘সর্বদল’ ডেকেছেন এও কারণেই। এটা যদি ‘অন্যধারা’ বা ‘নির্দল’দের ব্যাপারস্যাপার হত, তাহলে মিডিয়াও এত চেঁচাত না... রাজনৈতিক দলগুলোও এত সক্রিয় হত না। ধৃত ছাত্রদের জীবন সবার চোখের আড়ালে নিঃশব্দে ছত্রখান হয়ে যেত...

'সর্বঘটের কাঁঠালিকলারা' মোদীর সরবদল বৈঠকে গিয়ে কী বলেছেন, তা জানি না (জানি, কিন্তু মিডিয়া যেটুকু জানে, সেটুকুই) ... তবে তারা যে কাশ্মীরি জাতিসততার সুরক্ষা, স্বাধীনতা, মানুষের স্বাভাবিক মানবিক মর্যাদা ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আবশ্যিকতার প্রশ্নটা তোলেননি, এটা একেবারে নিশ্চিত!!

প্রসঙ্গ জেএনইউ

প্রসঙ্গ জে এন ইউ...

জেএনইউ নিয়ে এত গোলমালই হত না, যদি ভারত সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, বহুত্ববাদী দেশ হত...।

তা তো তারা নয়। তাই সমস্যা এখানেই...

সংখ্যাগুরুর পছন্দসই মত না দিলেই, তুমি দেশবিরোধী, জঙ্গি!

একটা কার্টুন আঁকলে, বা দু’লাইনের বিরোধী মতামত দিলেও এখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারাবন্দি হয়ে থাকতে হতে পারে...

সত্যি বলতে কী, জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম ইত্যাদি নিয়ে আগাগোড়া ভুল বোঝানো হয়েছে দেশের জনসাধারণ’কে। ব্যক্তি স্বাধীনতা, জাতিসত্তার স্বাধীনতা ইত্যাদি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ রাখা হয়নি তথাকথিত ভারতীয় গণতন্ত্রে। এর ফলে ব্যাপক মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়, তা নানা ইস্যুতে বেরিয়ে আসে। তখন ‘তুমি বিচ্ছিন্নতাবাদী’, ‘তুমি মাওবাদী’, ‘তুমি সন্ত্রাসবাদী’, ‘তুমি দেশবিরোধী’, ‘তুমি অশান্তি করতে চাইছ’, ‘তুমি উন্নয়নবিরোধী’--- এসব বলে মুখচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্র ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ ও বাজনদাররা। কিন্তু তাতে সত্য চাপা পড়ে না। নরেন্দ্র মোদী তো বলেছেন, তিনি সাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কোনও বিষয়ে আলোচনাতেই তাঁর বাধা নেই।

বেশ। তাহলে নেহরু-প্যাটেলের কংগ্রেস যে ভুল (বলা উচিত, অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতা) করেছিল কাশ্মীরি মানুষের সঙ্গে, সেই ক্ষমার অযোগ্য ‘ভুল’ শুধরে তিনি কাশ্মীর নিয়ে গণবিতর্ক ডাকুন... সবার মতামত নিন... ইতিহাসের দিকে চোখ রাখুন। যুক্তিপূর্ণ ও বস্তুবাদী ইতিহাসের দিক নির্দেশ মেনে কাশ্মীর সমস্যার (অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে) ফয়স্লা করুন। কেবল নওয়াজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কাশ্মীর ইস্যুর জট খুলবে না... আর মিথ্যে জাতীয়তাবাদী (যা ক্রমশই হিন্দু জাতীয়তাবাদী জিগিরে পর্যবসিত হয়েছে, হচ্ছে) ধুয়ো তুলে দলীয় কিছু লাভ হতে পারে বটে, কিন্তু তা দিয়ে মানুষকে বেশিদিন বোকা বানানো হয়তো আর সম্ভব হবে না।

আরও একটা কথা...

আমি নিশ্চিত, জেএন ইউ-এর ঘটনায় সংসদীয় দলগুলো জড়িয়ে গিয়েছে বলেই এ নিয়ে এত শোরগোল হচ্ছে... মিডিয়ায় ও সেই কারণেই পথেঘাটেও। প্রধানমন্ত্রীও ‘সর্বদল’ ডেকেছেন এও কারণেই। এটা যদি ‘অন্যধারা’ বা ‘নির্দল’দের ব্যাপারস্যাপার হত, তাহলে মিডিয়াও এত চেঁচাত না... রাজনৈতিক দলগুলোও এত সক্রিয় হত না। ধৃত ছাত্রদের জীবন সবার চোখের আড়ালে নিঃশব্দে ছত্রখান হয়ে যেত...

'সর্বঘটের কাঁঠালিকলারা' মোদীর সরবদল বৈঠকে গিয়ে কী বলেছেন, তা জানি না (জানি, কিন্তু মিডিয়া যেটুকু জানে, সেটুকুই) ... তবে তারা যে কাশ্মীরি জাতিসততার সুরক্ষা, স্বাধীনতা, মানুষের স্বাভাবিক মানবিক মর্যাদা ইত্যাদি নিয়ে খোলামেলা বিতর্কের আবশ্যিকতার প্রশ্নটা তোলেননি, এটা একেবারে নিশ্চিত!!