Monday, April 25, 2016

যুক্তিবাদীরা যদি হাম্লাবাজ হত...

বাংলাদেশে নাস্তিক, মুক্তমনা, গণতন্ত্রী, শিল্পরসিক মানুষকে ধরে ধরে চোখের সামনে খুন করছে মৌলবাদীরা। ভারতেও হচ্ছে, তবে রেখেঢেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে না... রাষ্ট্রের কোনও উদ্বেগ আছে বলেও মনে হচ্ছে না।...

এবার ধরুন, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো হল। মানে, নাস্তিক রা চাপাতি নিয়ে মৌলবাদীদের ধরে ধরে কোতল করতে শুরু করল। তাহলে কী হবে?

১। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নামবে। বলবে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। এই সরকার দূর হটো। দোষীদের শাস্তি চেয়ে ছোট বড় নেতারা বিব্রিতি দেবে। সমাবেশ, অবরোধ বন্ধ করে জনজীবন অচল করে দেবে তারা। প্রতিবাদের নামে অগ্নি সংজোগ, লুঠতরাজ, হামলা ইত্যাদির মাধ্যমে সত্যিকারের অচলাবস্থা তৈরি হবে।
২। সংবাদ মাধ্যমে সেসব ফলাও করে লেখা হবে। রিপোর্ট, এডিট, পোস্ট এডিট চলতে থাকবে। বুদ্ধিজীবীরা বিব্রিতি দেবেন। পালা করে গালাগাল দেওয়া হবে সরকার, বিরোধীদের। বলা হবে, তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্যই ধরম-বিরোধী, নাস্তিক, যুক্তিবাদীরা এমন বেলাগাম সন্ত্রাস নামিয়ে আনতে পেরেছে। আরও আরও আরও অনেক কথা।
৩। সরকার নিজের ভুল স্বীকার করে বিব্রিতি দেবে। আশ্বাস দেবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। এবং সত্যি সত্যিই তা-ই করবে।
৪। ধর্মীয় সংগঠনগুলো রাস্তায় নামবে কিছু শান্তির বাণী শোনাতে, কিছু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলে।
৫। পুলিশ ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নাস্তিক, অনাস্তিক চিন্তাশীল, যুক্তিবাদী, অজুক্তিবাদী কিন্তু প্রতিবাদী, আস্তিক কিন্তু যুক্তিবাদী চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল... নির্বিশেষে সব্বাইকে ধরে নাসা, তাডা, ইউএপিএ গোছের আইনে জেলে পুরে দেবে।
৬। আর সত্যিকারের যারা নিরীশ্বরবাদী আন্দোলনের মাথা, তাত্ত্বিক, তাঁদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করবে পুলিশের শারপ শুটাররা। নাস্তিক পরিবারের মেয়েদের ধরে ধরে ধর্ষণ করা হবে।
৭। সংবাদমাধ্যম, বুদ্ধিজীবীরা এরও একটু আধটু বিরোধিতা করবে, নিরপেক্ষতার স্বার্থে।
৮। কিছু ক্ষেত্রে কমিশন-টমিশন তৈরি হবে।
৯। এর পর নাস্তিকতা সংক্রান্ত যাবতীয় বইপত্র, সিনেমা, ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে...
১০। আর শেষমেশ যদি প্রয়োজন হয়, নাস্তিকদের দমনে সেনা নামানো হবে...
যা কখনই হবে না... মৌলবাদী' হিংসাকে রোখার জন্য...
এর নাম নিপীড়ক রাষ্ট্র...

Sunday, April 10, 2016

মৌলবাদী হিংসা ও খুনোখুনির বিরুদ্ধে AGAINST RELIGIOUS FUNDAMENTALISM sudipmoitra

মৌলবাদী হিংসা ও খুনোখুনির বিরুদ্ধে
...................................................
কথায় বলে, সব কিছুরই একটা সীমা আছে। কিন্তু দেখছি, মৌলবাদী অসভ্যতা, হিংসার কোনও সীমা নেই।
ধর্ম ও মৌলবাদী গোঁড়ামির সমালোচনা করায় একের পর এক খুন হতে হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তমনা যুক্তিবাদী ‘ব্লগার’দের। আরও অজস্র ব্লগারের মাথার ওপর খাঁড়া ঝুলছে। বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার মদত দিচ্ছে মৌলবাদী খুনিদেরই। পড়শি দেশটাতে ইসলামি মৌলবাদের দাপট এতটাই যে, রাতারাতি ‘ইসলামি রাষ্ট্র’ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের যুগে এটা ভাবা যায়! যুক্তি ও বাস্তবতার দিক থেকে ভয়াবহভাবে পশ্চাৎপদ ‘ধর্ম’ কীভাবে আধুনিক জনজীবনের ‘প্রধান ধারা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, তা ভেবে কুলকিনারা পাওয়া যায় না।
ভারতেও হিন্দু মৌলবাদীদের আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রভাবাধীন ‘বিজেপি’ ক্ষমতায় আসার পর থেকে হিন্দুত্ববাদীদের লম্ফঝম্ফ বেলাগাম হয়ে গিয়েছে। গোমাংস বিতর্কের সূত্রে মহম্মদ ইখলাক হত্যাকাণ্ড, দলিত নির্যাতন ইশ্যুতে রোহিত ভেমুলার মৃত্যু (কেবল ‘আত্মহত্যা’ বললে ব্যাপারটা লঘু হয়ে যায়, এটা আর একটা ‘হত্যা’, অবশ্যই), কিংবা জাতীয়তাবাদ ইশ্যুতে জওহরলাল নেহরু বিস্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কানহাইয়া কুমার ও তাঁর সঙ্গীদের গ্রেফতারির ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, সুযোগ পেলে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরাও হিংসা ও খুনের রাজনীতিতে বাংলাদেশি মুসলিম মৌলবাদীদের টেক্কা দিতে পারে! পারলে তারাও হাতে মাথা কাটে ভারতীয় মুক্তমনা, যুক্তিবাদীদের। তেমন ঘটনা যে ঘটছে না, তা-ও তো নয়। নরেন্দ্র দাভলকর, গোবিন্দ পানসারে, এমএম কুলবর্গী হত্যাকাণ্ডের পিছনে তো হিন্দু মৌলবাদী শক্তিরই হাত ছিল।
তাহলে এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কী? করণীয় একটাই। ধর্মীয় মৌলবাদী হিংসা, জাতপাতের হানাহানি, সাম্প্রদায়িকতার সর্বান্তঃকরণে নিন্দা করা, যেকোনো মূল্যে মানবিক মূল্যবোধ, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের চর্চা চালিয়ে যাওয়া, যে কোনও ধরনের যুক্তিহীনতা, গোঁড়ামি ও অবিজ্ঞানের বিরোধিতা করা এবং ‘যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া’ ভেবে নিয়ে সেই লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ানো...
বন্ধু আর দেরি নয়। চলুন... শত্রু-মিত্র চিনে নিই... মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, নাস্তিক, কমিউনিস্ট’রা ঐক্যবদ্ধ হই...
.................................
১৪ এপ্রিল মানে পয়লা বৈশাখ কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস এর কাছে... ধর্ম মৌলবাদ জাতপাত বিরোধী যুক্তিবাদী জমায়েত... সকাল থেকে দিনভর... বন্ধু, তুমিও এসো
মূল জমায়েতটা বিকেল ৫ টায় হবে...
.................................