বাংলাদেশে নাস্তিক, মুক্তমনা, গণতন্ত্রী, শিল্পরসিক মানুষকে ধরে ধরে চোখের সামনে খুন করছে মৌলবাদীরা। ভারতেও হচ্ছে, তবে রেখেঢেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে না... রাষ্ট্রের কোনও উদ্বেগ আছে বলেও মনে হচ্ছে না।...
এবার ধরুন, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো হল। মানে, নাস্তিক রা চাপাতি নিয়ে মৌলবাদীদের ধরে ধরে কোতল করতে শুরু করল। তাহলে কী হবে?
১। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নামবে। বলবে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। এই সরকার দূর হটো। দোষীদের শাস্তি চেয়ে ছোট বড় নেতারা বিব্রিতি দেবে। সমাবেশ, অবরোধ বন্ধ করে জনজীবন অচল করে দেবে তারা। প্রতিবাদের নামে অগ্নি সংজোগ, লুঠতরাজ, হামলা ইত্যাদির মাধ্যমে সত্যিকারের অচলাবস্থা তৈরি হবে।
২। সংবাদ মাধ্যমে সেসব ফলাও করে লেখা হবে। রিপোর্ট, এডিট, পোস্ট এডিট চলতে থাকবে। বুদ্ধিজীবীরা বিব্রিতি দেবেন। পালা করে গালাগাল দেওয়া হবে সরকার, বিরোধীদের। বলা হবে, তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্যই ধরম-বিরোধী, নাস্তিক, যুক্তিবাদীরা এমন বেলাগাম সন্ত্রাস নামিয়ে আনতে পেরেছে। আরও আরও আরও অনেক কথা।
৩। সরকার নিজের ভুল স্বীকার করে বিব্রিতি দেবে। আশ্বাস দেবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। এবং সত্যি সত্যিই তা-ই করবে।
৪। ধর্মীয় সংগঠনগুলো রাস্তায় নামবে কিছু শান্তির বাণী শোনাতে, কিছু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলে।
৫। পুলিশ ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নাস্তিক, অনাস্তিক চিন্তাশীল, যুক্তিবাদী, অজুক্তিবাদী কিন্তু প্রতিবাদী, আস্তিক কিন্তু যুক্তিবাদী চিন্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল... নির্বিশেষে সব্বাইকে ধরে নাসা, তাডা, ইউএপিএ গোছের আইনে জেলে পুরে দেবে।
৬। আর সত্যিকারের যারা নিরীশ্বরবাদী আন্দোলনের মাথা, তাত্ত্বিক, তাঁদের ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করবে পুলিশের শারপ শুটাররা। নাস্তিক পরিবারের মেয়েদের ধরে ধরে ধর্ষণ করা হবে।
৭। সংবাদমাধ্যম, বুদ্ধিজীবীরা এরও একটু আধটু বিরোধিতা করবে, নিরপেক্ষতার স্বার্থে।
৮। কিছু ক্ষেত্রে কমিশন-টমিশন তৈরি হবে।
৯। এর পর নাস্তিকতা সংক্রান্ত যাবতীয় বইপত্র, সিনেমা, ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত হবে...
১০। আর শেষমেশ যদি প্রয়োজন হয়, নাস্তিকদের দমনে সেনা নামানো হবে...
যা কখনই হবে না... মৌলবাদী' হিংসাকে রোখার জন্য...
এর নাম নিপীড়ক রাষ্ট্র...
No comments:
Post a Comment