Sunday, May 22, 2016

people's government জনমুখী সরকার

জনমুখী সরকার প্রসঙ্গে...


২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা আদৌ প্রশংসনীয় নয়। তার বদলে, সরকার যদি র‍্যাশনিং ব্যবস্থাটা'কে পুনরজ্জীবিত করত, তাহলে, আরও বেশি উপকার হত জনসাধারণের। সেক্ষেত্রে প্রশংসা করতে আপত্তি হত না।
দ্বিতীয়ত, গ্রামের কিশোর কিশোরীদের সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা সাইকেলে চড়ে ৪-৫ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে পারবে। কিন্তু কেন তাদের অতটা যেতে হবে স্কুলে পড়তে? কেন বাড়ির কাছে স্কুল থাকবে না? শহরে দু'হাত দূরে দূরে স্কুল। অথচ সেখানেপড়ুয়া নেই। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে মাস্টার'দের মাইনে দিতে। গ্রামে আরও বেশি স্কুল হবে না কেন? সরকারি স্কুলে পড়াশোনার মান উন্নয়নের প্রশ্ন'টাও আসবে। সে ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। কী আগের সরকারের, কী এখনকার।
তৃতীয়ত, বেসরকারি স্কুল শিক্ষার ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সেখানে স্রেফ তোলাবাজি চলছে। কেউ দেখার নেই। কেন? এটাও সরকারের বিরুদ্ধেই যাবে। তাই না? শিক্ষা, স্বাস্থ্য-এর মতো জরুরি পরিষেবা' নিয়ে ব্যবসাদারি বন্ধের জন্য কোন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে?
চতুর্থত, ভোট দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল, একবার ইলেকশন কমিশন বাড়িতে এসে স্লিপ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাগরিক পরিসেবা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে কেন এই মেশিনারি ব্যবহার করা হচ্ছে না? ভোটার কার্ড রিনিউয়াল, ডিজিটাল র‍্যাশন কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তো একই তৎপরতা কাম্য ছিল। না?
মেশিনারি আছে। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বার্থে, দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে। জনসাধারণের কথা ভেবে নয়। প্রশংসা করার আগে এসব অবশ্যই ভাবতে হবে। রাস্তার ধারে নিয়ন আলোয় যুক্তি-বুদ্ধি গুলিয়ে-ধাঁধিয়ে গেলে মুশকিল।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্য নিয়েই বা কী হয়েছে? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, বাম আমলে 'বিদ্যাসাগর হাসপাতাল' ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল... এখন রংচং করা হয়েছে। কিন্তু পরিষেবা? চোখের নজর কম হলে আর কাজল দিয়ে কী হবে...

assembly election 2016 ভোট ভাবনা ২০১৬

ভোট ভাবনা ২০১৬

১। বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটের ফলাফল পুরোপুরি জনমত প্রতিফলিত করে না। নানা কারণে এই ব্যবস্থায় স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ কম। এখানে মানুষকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ দেওয়া হয় না। বরং ধর্ম, জাতপাত, গোষ্ঠী, দেশ ইত্যাদি নানা অজুহাতে মানুষকে নানাভাবে ‘হিসটিরিয়াগ্রস্ত’ করে তোলা হয়। সেই সূত্রে তাদের চিন্তাভাবনাকে পছন্দমতো ‘এক খাতে’ বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। এছাড়া, নানা দলীয় প্রচারের সঙ্গে আবার পুঁজির সম্পর্ক থাকে। সম্পর্ক থাকে কর্পোরেটের। কর্পোরেটের টাকা আর মিডিয়ার সৌজন্যে কোনও দল প্রচারের আলোয় থাকে, অন্যরা থাকে বাইরে। আরও কারণ আছে। (তার মানে অবশ্য এই নয় যে, পুরোপুরি জনমত প্রকাশিত হলে ফলাফল একেবারে উলটে যেত। জামানত জব্দ হয়ে যেত বিজয়ী প্রার্থীদের!)
২। তৃণমূল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে মানে এই নয় যে রাজ্যের মানুষের ‘নিরঙ্কুশ সমর্থন’ তাদের দিকে আছে। বড় জোর এটা বলা যায় যে, 'মন্দের ভাল' দল হিসেবে তারা বাম-কং জোটকে টেক্কা দিয়েছে। সত্যি বলতে, মানুষের সামনে সত্যিকারের ‘অপশন’ কম থাকে, এ বারও তা-ই। ৩-৪’টে দল আর ‘নোটা’র বাইরে ভোটারদের কাছে ‘পছন্দ’ করার মতো আর কী ছিল! তাই জনসাধারণ হয়তো, সাতপাঁচ ভেবে, বাম-কং জোটের চেয়ে টিএমসি’কেই ‘বেশি গ্রহণযোগ্য’ বলে মনে করেছে, যেহেতু কোনও বিকল্প নেই, ছিলও না তাদের হাতে। এ সেই একদা বামেদেরই প্রচারিত ‘তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতার তত্ত্ব’! এক সময় বামেরা তাদের ক্রমহ্রাসমান বিশ্বাসযোগ্যতা ঢাকতে এই তত্ত্ব দিয়েছিল। এখন সেই তত্ত্বের ফলভোগ করছেন মমতা। ভাগ্যের, থুড়ি, ইতিহাসের কী নিদারুণ পরিহাস!
৩। সিপিএমের পরাজয় হয়েছে মানে মানুষ ‘বামপন্থা’ বা ‘মার্ক্সবাদ’কে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা নয়। মানুষ আসলে ‘সুবিধাবাদ'কে বর্জন করেছেন। অনেকেই বলছেন, ‘দুর্নীতি’ কোনো ইশ্যু হতে পারেনি। এটা খুবই উদ্বেগের। কিন্তু আমার ধারণা, ‘দুর্নীতি’ সম্পর্কেও জনসাধারণ সচেতন ছিলেন। আসলে সুবিধাবাদের গর্ভেই তো দুর্নীতির জন্ম হয়। মানুষ সম্ভবত, টিএমসি-র সুবিধাবাদ/দুর্নীতি’র চেয়েও বাম-কংগ্রেসের ‘সুবিধাবাদ’কে বেশি বিপজ্জনক বলে মনে করেছেন।
৪। এ রাজ্যের মানুষ যখন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা যখন নির্ভরযোগ্য 'বিকল্প' খুঁজে পান না, তখন 'স্থিতাবস্থা'তেই সায় দেন। অর্থাৎ, নেতিবাচক ভোটে ফলাফল নির্ধারিত হয়। অতীতে বহুবার বামেরা এই 'স্ট্যাটাসকো'র সুবিধা পেয়েছে। এবার পেয়েছে তৃণমূল, এই যা।
৫। ‘নোটা'য় ১.৫ পারসেনট ভোট পড়েছে। নোটার পক্ষে সরকারি, বেসরকারি কোনও স্তরেই প্রচার ছিল না। বরং উলটোটাই ছিল। তা সত্ত্বেও কম-বেশি ১০ লক্ষ মানুষ সমস্ত দল ও প্রার্থীকে বর্জন করেছে। ‘নোটা'র ভোটগুলো ছিল প্রতিনিধিত্বমুলক। অর্থাৎ এর ১০/২০/৩০ গুণ মানুষ মনে মনে 'নোটা' ভোট দিয়েছেন। এর সঙ্গে যদি যারা 'ভোট দেননি' বা 'ভোট বয়কট করেছেন'-দের যোগ করা যায়, তাহলে সংখ্যাটা খুব কম হবে না।
৬। বয়কটের ভোট+ নেতিবাচক ভোট + নোটা-- এই সব হিসেবের মধ্যে আনলে বলা যায়, মানুষ আসলে জয়ী, পরাজিত নির্বিশেষে সব দল'কেই একটি সাধারণ বার্তা দিয়েছেন... সেই বার্তা সংস্কারের, সংশোধনের, বিকল্পের।

এখন কথা হল, জনসাধারণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রাজনৈতিক ‘বারতা’কে দলগুলো গুরুত্ব দেবে কি না। তারা কি নিজেদের সংশোধন করবে? পালটাবে? নাকি তাদের যেমন বেণী তেমনি রবে? সে ক্ষেত্রে মানুষ কেই তার ‘বিকল্প সিদ্ধান্ত’ ‘নির্মাণ’ করতে হবে। সেটা তারা করবেন কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে...

protest against killing of bloggers প্রতিবাদের মুহূর্ত

প্রতিবাদের মুহূর্ত
.............................


বাংলাদেশে গত এক বছরে খুন হয়েছেন একের পর এক মুক্তমনা। এদের মধ্যে কেউ ব্লগার, কেউ অধ্যাপক, কেউ পত্রিকার সম্পাদক, কেউ আবার মানবাধিকার কর্মী। একই ঘটনা ঘটেছে, ঘটে চলেছে ভারত, পাকিস্তানেও।
ইদানীংকালে ভারতে গোবিন্দ পানসারে, এম এম কালবুরগী ও নরেন্দ্র দাভলকার হিন্দু মৌলবাদীদের হাতে খুন হন। খুব সম্প্রতি, পাকিস্তানে তালিবানি হামলায় মৃত্যু হয়েছে মানবাধিকার কর্মী খুরাম জাকি ও সাংবাদিক রাও খালিদের। এর আগেও পাকিস্তানে এমন ঘটনা ঘটেছে। যদিও বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্য দুটি দেশের তুলনায় আরও বেশি ভয়াবহ।
এসব বন্ধ হওয়ার সেভাবে কোনো পূর্বাভাসও এই মুহূর্তে নেই।
উপমহাদেশ জুড়ে এই উগ্র মৌলবাদী হিংসার বাড়বাড়ন্তে আমরা (মানে, যুক্তিবাদী-মানবতাবাদীরা) উদ্বিগ্ন। আরও উদ্বিগ্ন এই কারণে যে, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলি মৌলবাদী হিংসা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। এর ফলে প্রকারান্তরে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে অন্ধ হিংস্র মৌলবাদীদেরই। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও হিংসা যে হারে বাড়ছে, তাতে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে মুক্তচিন্তার পরিসর। এই পরিস্থিতি কেবল নাগরিকের নিরাপত্তা নয়, মানবসমাজের সার্বিক বিকাশের পক্ষেও ভীষণ বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর।
বস্তুত, ইদানীংকালে ভারত, পড়শি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যেভাবে মুক্তমনা, যুক্তিবাদী, এমনকি সাধারণ শিক্ষক, সুফি, সমাজকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে তাতে আশঙ্কা হয়, গোটা বিশ্বটাই কি ধীরে ধীরে অসহিষ্ণু ও সহিংস মৌলবাদীদের কব্জায় চলে যাচ্ছে?
ভাবলে বিস্ময় লাগে, ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষর করেছে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। সেই সনদের ১৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘প্রত্যেকেরই মতামতের ও মতামত প্রকাশের অধিকার ও স্বাধীনতা রয়েছে; বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ এবং যে কোনো উপায়ে ও রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান, গ্রহণ ও জ্ঞাত করার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত৷’’ অর্থাৎ, ধর্ম-সহ যে কোনো মতে বিশ্বাসের অধিকার যেমন আছে, তেমন অবিশ্বাসের অধিকারও আছে পৃথিবীর যে কোনো নাগরিকের।
এবার ভারতের দিকে তাকান।
ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারাতেও ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’কে স্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানের ৫১(এ)(এইচ) অনুচ্ছেদ মোতাবেক, ‘বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসার’কে সমস্ত নাগরিকের ‘আবশ্যিক কর্তব্য’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৌলবাদী চিন্তা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, হিংসা ইত্যাদি যে বিজ্ঞানমনস্কতার একেবারে উল্টো মেরুর বিষয়, সেটা মানতে নিশ্চয়ই কারও আপত্তি হবে না।
তারপরেও, আজকের বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এমন উল্লম্ফনের যুগে বিজ্ঞানমনস্কতা, গণতন্ত্র ও মানবতার উপর এ-হেন মৌলবাদী হামলা কোনও যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কোনও মূল্যে এই ‘হিংসা'কে প্রতিহত করতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে যুক্তি, শুভবুদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও মানবতাকে।
বিজ্ঞান ও যুক্তি চর্চার অতিদীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে এই ভারতীয় উপমহাদেশের। সেই ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখার দায়বদ্ধতাও আছে এই প্রজন্মের।
মনে রাখতে হবে ভিন্নস্বর, ভিন্নমত না থাকলে মানবসভ্যতা, সংস্কৃতি কোনো দিন এগোত না। কোনোদিন এগোবেও না।
মৌলবাদী হিংসা প্রতিরোধ করতে আমরা অবিলম্বে রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করছি। রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশের (ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের) সরকারের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছিঃ
১। মানবাধিকার সনদ মোতাবেক, ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত, লিঙ্গ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২। রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-সহ মানবাধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিতে হবে, যাতে তারা ‘মানবাধিকার সনদ'কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক মান্যতা দেয় এবং সনদের নীতি ও বিধিনিষেধ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।
৩। মুক্তমনা, নাস্তিক, যুক্তিবাদী, মানবাধিকার কর্মীদের, বিশেষত যাদের হুমকির মুখে দিন কাটাতে হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে।
৪। স্বাধীনতা-হরণকারী ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে রাষ্ট্রসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশ’কে।
৫। রাষ্ট্রসংঘের নির্দেশ অমান্যকারী দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।