জনমুখী সরকার প্রসঙ্গে...
২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার জন্য সরকার প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা আদৌ প্রশংসনীয় নয়। তার বদলে, সরকার যদি র্যাশনিং ব্যবস্থাটা'কে পুনরজ্জীবিত করত, তাহলে, আরও বেশি উপকার হত জনসাধারণের। সেক্ষেত্রে প্রশংসা করতে আপত্তি হত না।
দ্বিতীয়ত, গ্রামের কিশোর কিশোরীদের সাইকেল দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা সাইকেলে চড়ে ৪-৫ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে পারবে। কিন্তু কেন তাদের অতটা যেতে হবে স্কুলে পড়তে? কেন বাড়ির কাছে স্কুল থাকবে না? শহরে দু'হাত দূরে দূরে স্কুল। অথচ সেখানেপড়ুয়া নেই। কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে মাস্টার'দের মাইনে দিতে। গ্রামে আরও বেশি স্কুল হবে না কেন? সরকারি স্কুলে পড়াশোনার মান উন্নয়নের প্রশ্ন'টাও আসবে। সে ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা ন্যক্কারজনক। কী আগের সরকারের, কী এখনকার।
তৃতীয়ত, বেসরকারি স্কুল শিক্ষার ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। সেখানে স্রেফ তোলাবাজি চলছে। কেউ দেখার নেই। কেন? এটাও সরকারের বিরুদ্ধেই যাবে। তাই না? শিক্ষা, স্বাস্থ্য-এর মতো জরুরি পরিষেবা' নিয়ে ব্যবসাদারি বন্ধের জন্য কোন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে?
চতুর্থত, ভোট দেওয়া নিশ্চিত করার জন্য একবার সিপিএম, একবার তৃণমূল, একবার ইলেকশন কমিশন বাড়িতে এসে স্লিপ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাগরিক পরিসেবা সম্পর্কে মানুষকে জানাতে কেন এই মেশিনারি ব্যবহার করা হচ্ছে না? ভোটার কার্ড রিনিউয়াল, ডিজিটাল র্যাশন কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রেও তো একই তৎপরতা কাম্য ছিল। না?
মেশিনারি আছে। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বার্থে, দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে। জনসাধারণের কথা ভেবে নয়। প্রশংসা করার আগে এসব অবশ্যই ভাবতে হবে। রাস্তার ধারে নিয়ন আলোয় যুক্তি-বুদ্ধি গুলিয়ে-ধাঁধিয়ে গেলে মুশকিল।
মেশিনারি আছে। কিন্তু সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বার্থে, দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে। জনসাধারণের কথা ভেবে নয়। প্রশংসা করার আগে এসব অবশ্যই ভাবতে হবে। রাস্তার ধারে নিয়ন আলোয় যুক্তি-বুদ্ধি গুলিয়ে-ধাঁধিয়ে গেলে মুশকিল।
পঞ্চমত, স্বাস্থ্য নিয়েই বা কী হয়েছে? হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, বাম আমলে 'বিদ্যাসাগর হাসপাতাল' ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল... এখন রংচং করা হয়েছে। কিন্তু পরিষেবা? চোখের নজর কম হলে আর কাজল দিয়ে কী হবে...