Sunday, December 27, 2015




ঘৃণ্য অপরাধী'কে সাজা দেওয়ার তীব্র আকুতি'কে সামনে রেখে গোটা জনসমাজ'কে হিংস্র, নৃশংস করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে... মানুষের ন্যায়সঙ্গত সমস্ত অধিকার সমূলে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে...মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই অন্ধকার মধ্যযুগে কিংবা তারও আগের কোনও অন্ধকারতর জান্তব যুগে... এটা মানা যাচ্ছে না যাচ্ছে না যাচ্ছে না...
এ ব্যাপারে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত... রাষ্ট্রের পাতা ফাঁদে পা না দেওয়াই ভাল...

একটা ছেলে, ঘটনাচক্রে যার বয়স ১৮-র নীচে, সে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার জন্য দেশের সমস্ত শিশু-কিশোরের সুরক্ষা, নিরাপত্তা কবচ কেড়ে নিতে হবে, তাদের সবাইকে প্রাপ্ত বয়স্ক ধরে নিয়ে সেইভাবে ন্যায় বিচারের তরিকা তৈরি করতে হবে, এটা কেমন যুক্তি?
জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট তো সমস্ত শিশুর কথা ভেবে করা হয়েছে। তার যদি কোনও পরিবর্তন করতে হয়, তাহলেও তা সমস্ত শিশুর কথা ভেবেই করতে হবে। এ নিয়ে মতান্তর করার কোনও মানে হয় কি?
ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে আইন হতে পারে না। তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র আইন করতে হয়।
নিরভয়ার নাবালক অপরাধী 'সাবালক'এর মতোই কাজ করেছে, এটা হয়তো ঠিক, নিশ্চয়ই ঠিক, নিরভয়ার সাক্ষ্যই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই ধরনের ব্যতিক্রমী অপরাধী'দের নিয়ে কী করা উচিত, তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। কিন্তু, একেবারে বাচ্চা দের ভুল ত্রুটি অপরাধ কীভাবে মোকাবিলা করব, সেটাও ভাবা দরকার।
নৃশংসতার পাল্টা নৃশংসতা কোনও সমাধান নয়...

চোখের সামনে চুরি জোচ্চুরি দুষ্কার্য করে লাট করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আর তার চামচা-চামচিরা।
'পতিবাদি' বিরোধী' চামচিকেরা ঘোমটা টেনে বলছে, 'ও আটকানো যাবে না সোনা, সব জায়গায় হয়, মেনে নিতে হবে'।
এরাই আবার ময়দান গরম করছে কী সব জাতীয়, আন্তরজাতিক বিষয়ে পতিবাদি সমাবেশ করছে...
কিন্তু, শকুনের শাপে গোরু মরে না।
চামচিকের লাথি'তেও পুঁজিবাদ হটবে না।
মোল্লা পুরুতের দৌড় ওই মন্দির মসজিদ পজ্জন্ত...

প্লাস্টিকজাত দ্রব্য, তামাকজাত দ্রব্য ইত্যাদির ব্যবহারের উপর প্রথমেই নিষেধ চাপিয়ে না দিয়ে, সরকার বরং এগুলোর উৎপাদন, বিজ্ঞাপন, বিপণন বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাক। উৎস ও রাস্তাগুলো বন্ধ করুক। সরকার এটা ধাপে ধাপে করতে পারে, যেভাবে পরমাণু ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে 'ফেজ আউট' করা হয়। প্রয়োজন হলে, নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রে উৎপাদন জারি থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সর্বসাধারণের নাগালে আসবে না। প্লাস্টিক, তামাক'কে গাঁজা, মাদক, সোনা, রুপোর মর্যাদা দিয়ে নজরদারি, তল্লাসি জোরদার করা হোক। তাহলে 'নেশাখোর' জনসাধারণ এম্নিতেই থেবড়ে থাকে, আরো বমকে যাবে।
মূল মাথা ছেড়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা কাজের কথা নয়। এটা অনেকটা গোড়া রেখে গাছের আগা ছাঁটার মতোই হাস্যকর।

প্রসঙ্গ সলমন...
অপরাধ হল, অথচ প্রমাণ মিল ল না। কেন? না, পুলিশ ঠিকঠাক তদন্ত করেনি। প্রমাণ জোগাড় করেনি। তাহলে পুলিশের সাজা হল না কেন? পুলিশকে সাজা না দিতে পারলে, মামলার তদন্ত নতুন করে করার আদেশ দেওয়া হল না কেন? সাক্ষী, তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ'টা কেন ধোপে টিকল না? সল্মন তো ঘটনা স্থলে ছিল। 'দুর্ঘটনা' র পর কী দায়িত্ব পালন করেছিল একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে?
বিচার আরও একটু গড়ালে হয়তো এ ও বলা হত, যে ঘটনাস্থলে সলমন ছিলই না! আর ও একটু এগোলে, ঘটনাটাই ঘটেনি, সবই মায়া...
বিচারপতি তোমার বিচার... কে করবে?

নেতা ও বিস্কুট...
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যেন বিস্কুট কোম্পানি খুলেছে!
পুরনো বিস্কুট পুরনো ক্রেতাকে বিক্রি করতে বিস্কুট কোম্পানির মালিক নতুন মোড়ক আর স্লোগান তৈরি করে। রাজনৈতিক নেতারা’ও একই নীতিতে চলছে।
দলের নীতি, কর্মসূচি, রণকৌশল, কর্মীর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা ইত্যাদি কিচ্ছুটি না বদলে, নেতারা কেবল ‘স্লোগান’ বদলাতে চায় জনসাধারণ’কে কাছে টানতে।
বিস্কুট কোম্পানির মালিক যেমন রকমারি বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝায়, প্রতারিত করে, রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঠিক একই কাজ করছে। তারা ‘স্লোগান’ বদলাচ্ছে, কিন্তু নিজেদের বদলাচ্ছে না। দাঁড়াচ্ছে না মানুষের পাশেও। তারা শুধু মুখের বুলি’টা পালটে লোকঠকানোর বিদ্যে ঝালাই করছে। পারেও!!
কিন্তু মানুষ এসবও ধরে ফেলবে...
[Sudip Moitra তার মানে অবশ্য এই নয় যে, আমি রাজনীতির বিরোধী। বরং তার ঠিক উলটো। আমি ভীষণভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পক্ষে। কারণ রাজনীতি ছাড়া পরিবর্তন আনা যায় না। রাজনীতিহীন জনচেতনার তাৎপর্য 'নামসংকীর্তন'-এর বেশি কিছু নয়। চারদিকে যেসব 'প্রধান' রাজনৈতিক দল দেখছি, তাদের কথা শুনছি, আমার মন্তব্যটা সেই প্রেকশিতে... এর বাইরে নিশ্চয়ই ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া'ও চলছে... বহু মানুষ সেই রাজনীতির অপেক্ষায় রয়েছে, বিশ্বাস করি...]

পাঁচ বছর আগে দেখেছি কিছু সেলেব-এর ফেসবুকে দাপট। এখন তারা হাওয়া। ক্ষমতার কাছাআছি চলে গেছে কিনা! এই মুহূর্তে আবার অন্য কিছু সেলেব-হাফ সেলেবের দাপট দেখছি... জানি, পাল্লা ভারী হলে এরাও একসময় হাওয়া হয়ে যাবে। কারণ তখন তও নিরপেক্ষতার ভান করেও সত্যি কথাটা বলা যাবে না! এখন যেমন ঠোঁটকাটা বসু, বারুজ্জে, সেন'রা পারছে না! তখন তাদের দশাও একই হবে...হে হে...! পেন্ডুলাম এক দিকে দোলে না।

এত জঙ্গি আসে কোথা থেকে? কেন? এসব কি সরকার ভেবে দেখেছে?
মানুষকে খেয়ে পরে মাথা উঁচু করে ভালভাবে বাঁচতে দিন, কাজ দিন।
দেখবেন, কোথাও আর একটাও জঙ্গি থাকবে না... দু'একটা পাগলা দাশু টাইপ বন্দুকবাজ ছাড়া...

যেখানে লোকে খেতে পায় না, সেখানে স্বাস্থ্য শিবির করা হাস্যকর। যেখানে পড়াশোনাই হয় না, সেখানে পাশ-ফেল চালু করাটাও কি ত্তোধিক হাস্যকর নয়?

১০
 তিনটে প্রশ্নঃ ১। সরকারি কর্মীদের ডি এ না দিয়ে, কেন ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া হচ্ছে? ২। বেসরকারি, অসংগঠিত শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ, সুবিধা (ন্যূনতম বেত্ন, স্বাস্থ্য - চিকিৎসা ও অন্যান্য) দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না কেন? ৩। তোলাবাজি, হিংসা বাড়ছে কেন, অপরাধ হলে অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে কেন আর কেনই বা প্রতিবাদীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ, মাম্লা'র ফেউ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
আরও একটা কথা। আপনি ক্লাবের টাকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রকারান্তরে টাকা' টা কাদের পকেটে যাবে, তা বলেই দিয়েছেন। যদিও সরকার বলছে, ওই টাকা ক্লাবগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, সামাজিক উন্নয়নের জন্য! জনগণের টাকা দিয়ে কি এভাবে ক্যেকজনের পকেট ভরানো যুক্তিসঙ্গত?
এবং একটি মন্তব্যঃ
যুবসমাজকে, জনসমাজ'কে অধিকার দিতে হবে। ভিক্ষা দিয়ে কাজ হবে না...

১১

প্রসঙ্গ কাকদ্বীপ...
এখন আবার, কাকদ্বীপে অন্য গল্প। প্রতিবাদী শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে...আচ্ছা, এরকমই কি চলবে? এভাবেই কি গনতন্ত্র চলবে? কণ্ঠরোধ চলবে? এর প্রতিবাদ হবে না...? শিনা বোরা খুন নিয়ে বাংলা-সহ সমস্ত কাগজের ঘুম ছুটে যেতে দেখেছি... কাকদ্বীপের ঘটনা কি তার চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশি ভয়াবহ নয়?
অন্যায়ের প্রতিবাদ দলমত নির্বিশেষে হওয়া উচিত, জরুরি... না হলে অন্যায়ের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাব না... গতকাল কামদুনিতে হলে আজ তা কাকদ্বীপে, আগামীকাল কল্যানী বা কেষ্টপুরে হবে...

১২
কোনো সম্প্রদায়'কে খুশি করতে সেই সম্প্রদায়ের মতো করে পোশাক পরেন নেতারা।
বেশ।
তাহলে নাগা সন্ন্যাসীদের সম্মেলনে তাঁরা কী পোশাক পরে যাবেন?
(হিন্দুত্ব যেভাবে দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এমন একটা সম্মেলন অসম্ভব না।)
ব্যাপারটা অনেককেই উদ্বেগে রেখেছে। ... বিশেষত দলের নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের...
একটু ভাব্বেন স্যার...

১৩
আই এস-এর হামলা খুব খারাপ। কিন্তু মার্কিন-ফ্রান্স মিলে (পরে নিশ্চয়ই রাশিয়া ও অন্যরাও যোগ দেবে!) যে হাম্লাবাজিটা চালাচ্ছে, সেটা আরও আরও খারাপ... বোমারু বিমান হানা চালিয়ে তারা কাদের মারছে? তারা মারছে সাধারণ মানুষকে। কখনও তারা ফ্রান্স, কখনো বা সিরিয়ার।...বীরত্বের কী ছিরি!
মুশকিল হল, আই এস-'রা তাদের কর্মসূচি দিয়ে এমন জঘন্য 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস'কে বৈধতা দেয়... আইএস'দের অজুহাত করে জনসাধারণের ওপর প্রতিহিংসা চরিতারথ করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত, আমেরিকা, ফ্রান্স কেউই আই এস বা লস্করের চেয়ে কম খারাপ নয়... বরং আরও ভয়ংকর... কারণ, আই এস'এর নিন্দা সবাই করছে... কিন্তু আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রানশ-এর নিন্দা কেউ করছে না, বা করলেও হাতে গোনা...। আর হ্যাঁ, আইএস যদি সত্যিই 'মুস্লিম'দের ভাল চায়, তাহলে তাদের নিজেদের নীতি-আদর্শ, পথ, পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হবে। ইসলামি (ব্যাপকার্থে, ধর্মীয়) নীতিকথা দিয়ে মানুষের ভাল করা যাবে না। (শেষ লাইন' টা স্রেফ বলার জন্য বললাম!!)

sudipmoitra_ছোট ছোট দুঃখ কথা


মুখোশ হয়ে থাকব না আর
সাক্ষীগোপাল হব না।
মনের সুখে লিখব যা তা
স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা...।


প্যারিসে রক্ত দেখে কান্নায় ভাসি,
চুপচাপ দেখে যাই দক্ষিণী বানভাসি।
ভাল্লাগে না এসব ন্যাকা ন্যাকা কথা
সত্যিটা সহজে নিতে কেন এত কপটতা!
ভারতবাসী বন্যায় ভাসবে না
তো কি ভাসবে প্রমোদতরীতে
সাঁইসাঁই দৌড় পশ্চিমি হাওয়ায়
দেখুন দেখি, ক'টা বাজল ডিজিটাল ঘড়িতে?

ফুলটাই সব্বনাশ করেছে
শুধু কাঁটা যদি হত, সমস্যা হত না
প্রেমটাই ছিল বেশ
দায়িত্বটা মনের মতো না...

কাউকে চটাব না
লগ্ন হয়ে থাকব।
ঘ্রাণ নেব বিপ্লবের মাটির,
রক্তের ছিটে দেখে কপালে মেখে নেব
আঁচর কাটব না,
পাছে দাগ থেকে যায় আমার ভুলের।
কেবল লগ্ন হয়ে থেকে যাব অগুন্তির ভিড়ে।
সময় কি কেবল বিচ্যুতিটাই মনে রাখে,
চেষ্টা'টা নয়?
মানুষ কি কেবল প্রশ্নটাই শোনে, কান্নাটা নয়...

আমরা তো ভাই দুষ্টু দামাল
করবই যত কুকাজ্য
তোমরা বাপু চেঁচিয়েই যাও
বলে যাও এরে নৈরাজ্য।

ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হচ্ছে।
ধর্মের ভিত্তিতে বিশ্ব ভাগ হচ্ছে।
ধর্মের ভিত্তিতে হৃদয় ভাগ হচ্ছে।
ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হচ্ছে মানবতা।
তবুও মানুষ, তোমার জবাব আজও কেবল নীরবতা...

সমিতি করছি
বুদ্ধিজীবীদের নাগাল পাব বলে।
প্রকাশনা সংস্থা খুলেছি
৩৩% কমিশনে বই পাব বলে।
অফিস সেক্রেতারি হয়েছি
ছেলে-মেয়ের বই খাতা পেন পেন্সিলের
খরচ তুল্ব ব্লে।
আরও কী করছি, তার ফিরিস্তি... না থাক।
এসব প্রকাশ পেলে জনসাধারণের কাছে
ভুল বারতা যাবে...

Wednesday, November 4, 2015

সূর্য ঘুরছে the sun moves

বেদ বাইবেল কোরান'কে কলা দেখিয়ে...
পৃথিবী তো ঘুরছেই, এমন কি সূর্য সহ গোটা সিস্টেমটাই ঘুরছে!...
বরাবর, আজও...

'পৃথিবী তো সূর্যের চারদিকে ঘোরে। কিন্তু সূর্য ও কি কারও চারদিকে ঘোরে? হ্যাঁ, ঘোরে। কিন্তু কার চারদিকে? সূর্য সহ গোটা সৌর জগত মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির চারদিকে ঘোরে। এই ঘূর্ণনের গড় গতিবেগ ৮২৮০০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। আকাশ গঙ্গা নক্ষত্র পুঞ্জকে একবার পাক খেতে ২৩ কোটি বছর সময় লাগে সৌর ব্যবস্থার।'

Tuesday, November 3, 2015

সাংবাদিকের হালচাল

সাংবাদিকের মৃত্যু...

সাংবাদিক মরলে মালিকের, সরকারের ঘণ্টা!... তাই তো আজও বেশিরভাগ সাংবাদিক নিছক দিন মজুর/মাস মজুরের মতো কাজ করে... তারা মূলত অসংগঠিত শ্রমিক... সাংবাদিক সংগঠন পরজন্ত তাদের পেশা'কে/ রুটি- রুজির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় না, মর্যাদা তো দুরস্ত...। বেশির ভাগ সাংবাদিকের পেশাগত পরিচয়, কাজের নিশ্চিতি, বিমা (দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্য সহ), আরথিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিতসার সুযোগ ইত্যাদি কিছুই নেই...
অবশ্য এসব ব্ললে বড়দারা রেগে যাবেন... তার চেয়ে বড় বড়দারা চাকরিও খেয়ে নিতে পারেন... তার চেয়ে আরও বড় বড়দারা জেলে পুরতেও পারেন...! কিন্তু সত্যিটা বড় নিরমম হলেও বড় বাস্তব...
তথাপি ন্যাংটার নেই বাটপারের ভয়...
সাংবাদিকরা তো আসলে ন্যাংটাই...

তিন সূত্র

সম্প্রতি আমি আমার বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে কিছু জিনিস শিখলাম। সেগুলো সূত্রবদ্ধ করলে দাঁড়ায়---
সূত্র ১ঃ
‘যুক্তিবাদীদের প্রথম ও প্রধান লড়াই'টা নিজের অজ্ঞতার বিরুদ্ধে।’
সূত্র ২ঃ
‘আন্দোলন করতে হলে দলমত নির্বিশেষে কমরেডশিপ বাড়াতে হবে।’
সূত্র ৩ঃ
‘মতাদর্শের আগে প্রকৃতি ও মানুষ’কে ভালবাসতে হবে।’

গরু শুয়োরের রাজনীতি

গরু-শুয়োরের রাজনীতি প্রসঙ্গে...১। এটা ঠিকই যে, খাদ্যাভ্যাস দিয়ে মানুষের ‘প্রগতিশীলতা’ মাপা যায় না। গরু বা শূকরের মাংস খেলেই খুব এক চোট প্রগতিশীলতা হল, আর না খেলেই তা হয়ে গেল মান্ধাতার বাবার আমলের স্টাইল স্টেটমেন্ট, এমনটা মোটেই নয়।২। কে কী খাবে বা পরবে (বা, পড়বে), তা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এব্যাপারে অন্যদের হস্তক্ষেপ না করাই বাঞ্ছনীয়।৩। গো মাংস সংক্রান্ত বিতর্ক’টা অনেকটা ওই ‘স্কুলে মেয়েরা শালোয়ার না শাড়ি পরবে’ বিতর্কের মতো, এবং অবশ্যই হাস্যকর।৪। আবার এ কথাও সত্যি, গো মাংস নিয়ে একটা ‘রাজনীতি’ হয়, এবং আবারও হচ্ছে। এটা হল ভোট ব্যাংকের রাজনীতি। ‘মুসলিম ভোট’ কবজা করার কৌশল হিসেবেই রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের মদতদাতারা এই রাজনৈতিক খেলাটা খেলছে। এটা হল ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি।৫। যারা গোমাংসের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিচ্ছে, তারা ‘হিন্দু ভোট’ টানতে চায়। যেমন শিবসেনা, বিজেপি ও তাঁদের সাঙ্গপাঙ্গরা। আর যারা তার বিরোধিতা করছে, তারা চাইছে ‘মুসলিম ভোট’ টানতে। এ দিকে আছে, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো। এই কারণেই গোমাংসের প্রশ্নে এক-ঘাটে মাংস চিবোতে দেখা যাচ্ছে সিপিএম-তৃণমূলকে (থুড়ি, বিকাশ-সুবোধ’কে)।৬। গোমাংস খাওয়া নিয়ে কেউ ফতোয়া দিলে, তার বিরোধিতায় অযুক্তি বা অন্যায় কিছু নেই। যে কোনো ফতোয়ার বিরুদ্ধে কথা বলার ব্যাপারে যুক্তিবাদী, মুক্তচিন্তার মানুষদের আপত্তি থাকবে কেন? বরং, এটা তারা সচেতনভাবে সমর্থন করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ওই, ‘সচেতনভাবে’!৭। এ দেশের প্রায় সব দল (‘প্রায়’ কথাটা নিছক আলংকারিক!) মৌলবাদের সঙ্গে আপস-রফা করে চলে, এটা দিনের আলোর চেয়েও স্পষ্ট। এরা ভোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতা থেকে যখন গো-রাজনীতি করে, তখন তাদের অংক গুলিয়ে দিতে গরু’র পাল্টা শূকরের প্রসঙ্গটা তোলা যেতেই পারে। অন্য কোনো কারণে নয়, স্রেফ তাদের ভণ্ডামি’টা ফাঁস করে দিতে। অর্থাৎ, গোমাংস ভক্ষণের পাল্টা হিসেবে যারা শূকরের মাংস ভক্ষণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন, আমি তাদের পক্ষে।৮। আর একটা জরুরি কথা। এমনিতে ‘আপ রুচি খানা...’র তত্ত্ব ঠিকই আছে। আমিষ-নিরামিষ পছন্দ নিয়েও আপত্তির কোনো কারণ দেখি না। কিন্তু বন্ধু, অনেকেই ‘আপ রুচি খানা...’র তত্ত্বের আড়ালে নিজের আবাল্যলালিত সংস্কার ঢেকে রাখতে চায়, এহেন উদাহরণও কিন্তু কম নয়। একইসঙ্গে ‘সংস্কার’ ও ‘প্রগতিশীলতা’কে সুরক্ষিত রাখার কৌশল হিসেবে তারা মানুষের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বাস্তবতা, রুচি, খাদ্যাভ্যাস, আমিষ-নিরামিষের গুনাগুণ, জনস্বাস্থ্য, গোপালনের (শূকর পালন নিয়েও হয়তো কেউ বলে, আমি শুনিনি) উপযোগিতা ও আবশ্যিকতা, নির্বিচারে প্রাণীহত্যার কুফল, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ইত্যাদি প্রশ্ন (পড়ো, আপত্তি) তোলেন। এটা ‘আত্মপ্রবঞ্চনা’ কি না, ভেবে দেখতে হবে। (এ কথাগুলো খানিকটা আমি নিজের উদ্দেশেই বললাম!)৯। এটা ঠিকই যে, ‘সংস্কার’ পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায় না। প্রবল মেধাবী, প্রতিভাধর’রাও তা পারেন না। তবে নিজের অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সচেতন থাকা উচিত। নিজেকে আগমার্কা প্রগতিশীল হিসেবে জাহির করা বাঞ্ছনীয় নয়।১০। শেষে একটাই ঘোষণাঃ নিজের অজ্ঞতা ও সংস্কারকে ‘বিজ্ঞান ও যুক্তি’সম্মত বলে চালানোটা আমাদের কাজ নয়। বরং, নিজের মনে জমে থাকা ‘অজ্ঞতা ও সংস্কার’-এর জঞ্জাল সাফ করাটাই আমাদের আসলি লড়াই...

Monday, October 19, 2015

মন খুলে কথা বলুন

বিরোধীকে বলতে দাও...
যুক্তিবাদী বন্ধুর সংখ্যা প্রতিদিন'ই দু-চারজন করে বাড়ছে... ভাল লাগছে...। প্রত্যেককেই স্বাগত জানাই, এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে।
বন্ধুদের অনুরোধ... বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দিয়ে, প্রশ্ন তুলে গোষ্ঠীর অন্য বন্ধুদের অনুপ্রাণিত করুন, উৎসাহ দিন। সার্বিকভাবে পৃথিবীতে আজ কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, বিদ্বেষ, হিংসাত্মক মনোভাব ইত্যাদি বাড়ছে। কমছে সহিষ্ণুতা। অন্যের কথা শোনার ধৈর্য নেই, কেবল নিজের কথাটা তারস্বরে চেচিয়ে বলে যাওয়া, আর অন্যকে নিজের কথাটা গিলিয়ে দেওয়ার একটা উৎকট অপসংস্কৃতির চর্চা চলছে সবদিকে। সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল একযোগে এই সংস্কৃতির কেবল চর্চা করছে না, প্রশ্রয়ও দিচ্ছে। যাতে জনসাধারণও এতে মজে থাকে। কিন্তু, এর পাল্টা সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে আমাদের। হিংসার রাস্তা থেকে সরে এসে যুক্তি, সংবেদনশীলতা, সহানুভুতি সমেত পারস্পরিক আলাপ আলোচনার দরজা জানালা খুলে দেওয়া...
প্রত্যেকে নিজের কথা বলুন, অন্যের কথায় সাড়া দিন... সমাজকে নতুন করে দেখার, ভাবার ইন্ধন জোগান...
'আক্রমণ নয়, আলাপ
হিংসা নয়, সহানুভূতি' ... এটাই আমাদের নীতি হোক
শরতের আকাশের মতোই আমাদের চিন্তা-চেতনা স্বচ্ছ ও গোঁড়ামি মুক্ত হোক...
সকলকে শুভেচ্ছা জানাই...।।