১
ঘৃণ্য অপরাধী'কে সাজা দেওয়ার তীব্র আকুতি'কে সামনে রেখে গোটা জনসমাজ'কে হিংস্র, নৃশংস করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে... মানুষের ন্যায়সঙ্গত সমস্ত অধিকার সমূলে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে...মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই অন্ধকার মধ্যযুগে কিংবা তারও আগের কোনও অন্ধকারতর জান্তব যুগে... এটা মানা যাচ্ছে না যাচ্ছে না যাচ্ছে না...
এ ব্যাপারে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া উচিত... রাষ্ট্রের পাতা ফাঁদে পা না দেওয়াই ভাল...
২
একটা ছেলে, ঘটনাচক্রে যার বয়স ১৮-র নীচে, সে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার জন্য দেশের সমস্ত শিশু-কিশোরের সুরক্ষা, নিরাপত্তা কবচ কেড়ে নিতে হবে, তাদের সবাইকে প্রাপ্ত বয়স্ক ধরে নিয়ে সেইভাবে ন্যায় বিচারের তরিকা তৈরি করতে হবে, এটা কেমন যুক্তি?
জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট তো সমস্ত শিশুর কথা ভেবে করা হয়েছে। তার যদি কোনও পরিবর্তন করতে হয়, তাহলেও তা সমস্ত শিশুর কথা ভেবেই করতে হবে। এ নিয়ে মতান্তর করার কোনও মানে হয় কি?
ব্যক্তি বিশেষের অপরাধের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে আইন হতে পারে না। তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য স্বতন্ত্র আইন করতে হয়।
নিরভয়ার নাবালক অপরাধী 'সাবালক'এর মতোই কাজ করেছে, এটা হয়তো ঠিক, নিশ্চয়ই ঠিক, নিরভয়ার সাক্ষ্যই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই ধরনের ব্যতিক্রমী অপরাধী'দের নিয়ে কী করা উচিত, তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। কিন্তু, একেবারে বাচ্চা দের ভুল ত্রুটি অপরাধ কীভাবে মোকাবিলা করব, সেটাও ভাবা দরকার।
নৃশংসতার পাল্টা নৃশংসতা কোনও সমাধান নয়...
৩
চোখের সামনে চুরি জোচ্চুরি দুষ্কার্য করে লাট করে দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আর তার চামচা-চামচিরা।
'পতিবাদি' বিরোধী' চামচিকেরা ঘোমটা টেনে বলছে, 'ও আটকানো যাবে না সোনা, সব জায়গায় হয়, মেনে নিতে হবে'।
এরাই আবার ময়দান গরম করছে কী সব জাতীয়, আন্তরজাতিক বিষয়ে পতিবাদি সমাবেশ করছে...
'পতিবাদি' বিরোধী' চামচিকেরা ঘোমটা টেনে বলছে, 'ও আটকানো যাবে না সোনা, সব জায়গায় হয়, মেনে নিতে হবে'।
এরাই আবার ময়দান গরম করছে কী সব জাতীয়, আন্তরজাতিক বিষয়ে পতিবাদি সমাবেশ করছে...
কিন্তু, শকুনের শাপে গোরু মরে না।
চামচিকের লাথি'তেও পুঁজিবাদ হটবে না।
চামচিকের লাথি'তেও পুঁজিবাদ হটবে না।
মোল্লা পুরুতের দৌড় ওই মন্দির মসজিদ পজ্জন্ত...
৪
প্লাস্টিকজাত দ্রব্য, তামাকজাত দ্রব্য ইত্যাদির ব্যবহারের উপর প্রথমেই নিষেধ চাপিয়ে না দিয়ে, সরকার বরং এগুলোর উৎপাদন, বিজ্ঞাপন, বিপণন বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাক। উৎস ও রাস্তাগুলো বন্ধ করুক। সরকার এটা ধাপে ধাপে করতে পারে, যেভাবে পরমাণু ও অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে 'ফেজ আউট' করা হয়। প্রয়োজন হলে, নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রে উৎপাদন জারি থাকতে পারে, কিন্তু সেটা সর্বসাধারণের নাগালে আসবে না। প্লাস্টিক, তামাক'কে গাঁজা, মাদক, সোনা, রুপোর মর্যাদা দিয়ে নজরদারি, তল্লাসি জোরদার করা হোক। তাহলে 'নেশাখোর' জনসাধারণ এম্নিতেই থেবড়ে থাকে, আরো বমকে যাবে।
মূল মাথা ছেড়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা কাজের কথা নয়। এটা অনেকটা গোড়া রেখে গাছের আগা ছাঁটার মতোই হাস্যকর।
মূল মাথা ছেড়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা কাজের কথা নয়। এটা অনেকটা গোড়া রেখে গাছের আগা ছাঁটার মতোই হাস্যকর।
৫
প্রসঙ্গ সলমন...
অপরাধ হল, অথচ প্রমাণ মিল ল না। কেন? না, পুলিশ ঠিকঠাক তদন্ত করেনি। প্রমাণ জোগাড় করেনি। তাহলে পুলিশের সাজা হল না কেন? পুলিশকে সাজা না দিতে পারলে, মামলার তদন্ত নতুন করে করার আদেশ দেওয়া হল না কেন? সাক্ষী, তথ্য-প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ'টা কেন ধোপে টিকল না? সল্মন তো ঘটনা স্থলে ছিল। 'দুর্ঘটনা' র পর কী দায়িত্ব পালন করেছিল একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে?
বিচার আরও একটু গড়ালে হয়তো এ ও বলা হত, যে ঘটনাস্থলে সলমন ছিলই না! আর ও একটু এগোলে, ঘটনাটাই ঘটেনি, সবই মায়া...
বিচারপতি তোমার বিচার... কে করবে?
বিচারপতি তোমার বিচার... কে করবে?
৬
নেতা ও বিস্কুট...
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যেন বিস্কুট কোম্পানি খুলেছে!
পুরনো বিস্কুট পুরনো ক্রেতাকে বিক্রি করতে বিস্কুট কোম্পানির মালিক নতুন মোড়ক আর স্লোগান তৈরি করে। রাজনৈতিক নেতারা’ও একই নীতিতে চলছে।
দলের নীতি, কর্মসূচি, রণকৌশল, কর্মীর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা ইত্যাদি কিচ্ছুটি না বদলে, নেতারা কেবল ‘স্লোগান’ বদলাতে চায় জনসাধারণ’কে কাছে টানতে।
বিস্কুট কোম্পানির মালিক যেমন রকমারি বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝায়, প্রতারিত করে, রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঠিক একই কাজ করছে। তারা ‘স্লোগান’ বদলাচ্ছে, কিন্তু নিজেদের বদলাচ্ছে না। দাঁড়াচ্ছে না মানুষের পাশেও। তারা শুধু মুখের বুলি’টা পালটে লোকঠকানোর বিদ্যে ঝালাই করছে। পারেও!!
কিন্তু মানুষ এসবও ধরে ফেলবে...
পুরনো বিস্কুট পুরনো ক্রেতাকে বিক্রি করতে বিস্কুট কোম্পানির মালিক নতুন মোড়ক আর স্লোগান তৈরি করে। রাজনৈতিক নেতারা’ও একই নীতিতে চলছে।
দলের নীতি, কর্মসূচি, রণকৌশল, কর্মীর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা ইত্যাদি কিচ্ছুটি না বদলে, নেতারা কেবল ‘স্লোগান’ বদলাতে চায় জনসাধারণ’কে কাছে টানতে।
বিস্কুট কোম্পানির মালিক যেমন রকমারি বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝায়, প্রতারিত করে, রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঠিক একই কাজ করছে। তারা ‘স্লোগান’ বদলাচ্ছে, কিন্তু নিজেদের বদলাচ্ছে না। দাঁড়াচ্ছে না মানুষের পাশেও। তারা শুধু মুখের বুলি’টা পালটে লোকঠকানোর বিদ্যে ঝালাই করছে। পারেও!!
কিন্তু মানুষ এসবও ধরে ফেলবে...
[Sudip Moitra তার মানে অবশ্য এই নয় যে, আমি রাজনীতির বিরোধী। বরং তার ঠিক উলটো। আমি ভীষণভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পক্ষে। কারণ রাজনীতি ছাড়া পরিবর্তন আনা যায় না। রাজনীতিহীন জনচেতনার তাৎপর্য 'নামসংকীর্তন'-এর বেশি কিছু নয়। চারদিকে যেসব 'প্রধান' রাজনৈতিক দল দেখছি, তাদের কথা শুনছি, আমার মন্তব্যটা সেই প্রেকশিতে... এর বাইরে নিশ্চয়ই ইতিবাচক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া'ও চলছে... বহু মানুষ সেই রাজনীতির অপেক্ষায় রয়েছে, বিশ্বাস করি...]
৭
পাঁচ বছর আগে দেখেছি কিছু সেলেব-এর ফেসবুকে দাপট। এখন তারা হাওয়া। ক্ষমতার কাছাআছি চলে গেছে কিনা! এই মুহূর্তে আবার অন্য কিছু সেলেব-হাফ সেলেবের দাপট দেখছি... জানি, পাল্লা ভারী হলে এরাও একসময় হাওয়া হয়ে যাবে। কারণ তখন তও নিরপেক্ষতার ভান করেও সত্যি কথাটা বলা যাবে না! এখন যেমন ঠোঁটকাটা বসু, বারুজ্জে, সেন'রা পারছে না! তখন তাদের দশাও একই হবে...হে হে...! পেন্ডুলাম এক দিকে দোলে না।
৮
এত জঙ্গি আসে কোথা থেকে? কেন? এসব কি সরকার ভেবে দেখেছে?
মানুষকে খেয়ে পরে মাথা উঁচু করে ভালভাবে বাঁচতে দিন, কাজ দিন।
দেখবেন, কোথাও আর একটাও জঙ্গি থাকবে না... দু'একটা পাগলা দাশু টাইপ বন্দুকবাজ ছাড়া...
মানুষকে খেয়ে পরে মাথা উঁচু করে ভালভাবে বাঁচতে দিন, কাজ দিন।
দেখবেন, কোথাও আর একটাও জঙ্গি থাকবে না... দু'একটা পাগলা দাশু টাইপ বন্দুকবাজ ছাড়া...
৯
যেখানে লোকে খেতে পায় না, সেখানে স্বাস্থ্য শিবির করা হাস্যকর। যেখানে পড়াশোনাই হয় না, সেখানে পাশ-ফেল চালু করাটাও কি ত্তোধিক হাস্যকর নয়?
১০
তিনটে প্রশ্নঃ ১। সরকারি কর্মীদের ডি এ না দিয়ে, কেন ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া হচ্ছে? ২। বেসরকারি, অসংগঠিত শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ, সুবিধা (ন্যূনতম বেত্ন, স্বাস্থ্য - চিকিৎসা ও অন্যান্য) দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না কেন? ৩। তোলাবাজি, হিংসা বাড়ছে কেন, অপরাধ হলে অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে কেন আর কেনই বা প্রতিবাদীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ, মাম্লা'র ফেউ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
আরও একটা কথা। আপনি ক্লাবের টাকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রকারান্তরে টাকা' টা কাদের পকেটে যাবে, তা বলেই দিয়েছেন। যদিও সরকার বলছে, ওই টাকা ক্লাবগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, সামাজিক উন্নয়নের জন্য! জনগণের টাকা দিয়ে কি এভাবে ক্যেকজনের পকেট ভরানো যুক্তিসঙ্গত?
এবং একটি মন্তব্যঃ
যুবসমাজকে, জনসমাজ'কে অধিকার দিতে হবে। ভিক্ষা দিয়ে কাজ হবে না...
আরও একটা কথা। আপনি ক্লাবের টাকা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে প্রকারান্তরে টাকা' টা কাদের পকেটে যাবে, তা বলেই দিয়েছেন। যদিও সরকার বলছে, ওই টাকা ক্লাবগুলোকে দেওয়া হচ্ছে, সামাজিক উন্নয়নের জন্য! জনগণের টাকা দিয়ে কি এভাবে ক্যেকজনের পকেট ভরানো যুক্তিসঙ্গত?
এবং একটি মন্তব্যঃ
যুবসমাজকে, জনসমাজ'কে অধিকার দিতে হবে। ভিক্ষা দিয়ে কাজ হবে না...
১১
প্রসঙ্গ কাকদ্বীপ...
এখন আবার, কাকদ্বীপে অন্য গল্প। প্রতিবাদী শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে...আচ্ছা, এরকমই কি চলবে? এভাবেই কি গনতন্ত্র চলবে? কণ্ঠরোধ চলবে? এর প্রতিবাদ হবে না...? শিনা বোরা খুন নিয়ে বাংলা-সহ সমস্ত কাগজের ঘুম ছুটে যেতে দেখেছি... কাকদ্বীপের ঘটনা কি তার চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশি ভয়াবহ নয়?
অন্যায়ের প্রতিবাদ দলমত নির্বিশেষে হওয়া উচিত, জরুরি... না হলে অন্যায়ের হাত থেকে কেউ রক্ষা পাব না... গতকাল কামদুনিতে হলে আজ তা কাকদ্বীপে, আগামীকাল কল্যানী বা কেষ্টপুরে হবে...
১২
কোনো সম্প্রদায়'কে খুশি করতে সেই সম্প্রদায়ের মতো করে পোশাক পরেন নেতারা।
বেশ।
তাহলে নাগা সন্ন্যাসীদের সম্মেলনে তাঁরা কী পোশাক পরে যাবেন?
(হিন্দুত্ব যেভাবে দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এমন একটা সম্মেলন অসম্ভব না।)
ব্যাপারটা অনেককেই উদ্বেগে রেখেছে। ... বিশেষত দলের নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের...
একটু ভাব্বেন স্যার...
বেশ।
তাহলে নাগা সন্ন্যাসীদের সম্মেলনে তাঁরা কী পোশাক পরে যাবেন?
(হিন্দুত্ব যেভাবে দুর্বার গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এমন একটা সম্মেলন অসম্ভব না।)
ব্যাপারটা অনেককেই উদ্বেগে রেখেছে। ... বিশেষত দলের নিচুতলার রাজনৈতিক কর্মীদের...
একটু ভাব্বেন স্যার...
১৩
আই এস-এর হামলা খুব খারাপ। কিন্তু মার্কিন-ফ্রান্স মিলে (পরে নিশ্চয়ই রাশিয়া ও অন্যরাও যোগ দেবে!) যে হাম্লাবাজিটা চালাচ্ছে, সেটা আরও আরও খারাপ... বোমারু বিমান হানা চালিয়ে তারা কাদের মারছে? তারা মারছে সাধারণ মানুষকে। কখনও তারা ফ্রান্স, কখনো বা সিরিয়ার।...বীরত্বের কী ছিরি!
মুশকিল হল, আই এস-'রা তাদের কর্মসূচি দিয়ে এমন জঘন্য 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস'কে বৈধতা দেয়... আইএস'দের অজুহাত করে জনসাধারণের ওপর প্রতিহিংসা চরিতারথ করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হিসেবে ভারত, আমেরিকা, ফ্রান্স কেউই আই এস বা লস্করের চেয়ে কম খারাপ নয়... বরং আরও ভয়ংকর... কারণ, আই এস'এর নিন্দা সবাই করছে... কিন্তু আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রানশ-এর নিন্দা কেউ করছে না, বা করলেও হাতে গোনা...। আর হ্যাঁ, আইএস যদি সত্যিই 'মুস্লিম'দের ভাল চায়, তাহলে তাদের নিজেদের নীতি-আদর্শ, পথ, পদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে ভাবতে হবে। ইসলামি (ব্যাপকার্থে, ধর্মীয়) নীতিকথা দিয়ে মানুষের ভাল করা যাবে না। (শেষ লাইন' টা স্রেফ বলার জন্য বললাম!!)
No comments:
Post a Comment